স্বেচ্ছায় চলে যান নইলে কঠোর ব্যবস্থা, অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরপরই রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ‘পুশব্যাক’ বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য শুভেন্দু অধিকারী সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো সওয়াল করে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এ দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমস্ত ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং গরিব কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছে। পূর্বতন রাজনৈতিক মদদে তাদের বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব, ভোটার আইডি এবং আধার কার্ড তৈরি করে দিয়ে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। মন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সমস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আলাদা করা হবে। তারা যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে না যায়, তবে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
হোল্ডিং সেন্টার ও পুশব্যাক প্রক্রিয়া
রাজ্যজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ইতিমধ্যেই মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতেও এই প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে আটক এবং প্রত্যর্পণের যে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছিল, বর্তমান সরকার এখন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ বা ‘চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার’—এই নীতিকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে প্রশাসন। সরকারের এই সাঁড়াশি অভিযানের ভয়ে ইতিমধ্যেই হাকিমপুর চেকপোস্টসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঘটনার কারণ ও ডেমোগ্রাফিক প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনসংখ্যা ও সামাজিক ভারসাম্য বা ডেমোগ্রাফি মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের প্রকৃত নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষার তাগিদেই বর্তমান প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে আগামী দিনে সীমান্ত পারাপারের অবৈধ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে এবং রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যাবে।