গরমের ছুটিতে পাহাড়ে পর্যটকদের রেকর্ড ঢল, যানজট আর বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ

কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে এবং স্কুল-কলেজের গরমের ছুটিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিকিম ও ডুয়ার্সের পাশাপাশি শৈলশহর দার্জিলিং এখন ট্যুরিস্টদের প্রধান গন্তব্য। তবে পরিকাঠামোর তুলনায় অতিরিক্ত পর্যটক চলে আসায় পাহাড়ের স্বাভাবিক জনজীবন ও পর্যটন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
যানবাহনের দীর্ঘ লাইন এবং সময় অপচয়
পাহাড়িপথে গত কয়েকদিন ধরে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি রাস্তায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে মাত্র তিন ঘণ্টা লাগে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। পরিস্থিতি কতটা জটিল তা বোঝা যায় ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত মাত্র ৬ কিলোমিটার পথ পার হতে পর্যটকদের দুই ঘণ্টার বেশি সময় গাড়ি বন্দি থাকার ঘটনা থেকে।
লাগামছাড়া ভাড়া বৃদ্ধি এবং হোটেল সংকট
ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একাংশ গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এনজেপি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার স্বাভাবিক ভাড়া তিন হাজার টাকা হলেও, এখন তা পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। এমনকি মিরিক হয়ে ফেরার পথে গাড়িভাড়া সাত হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। এই বিপুল ভাড়ার কারণে পর্যটকদের পকেট কাটছে। একই সাথে দার্জিলিংয়ের ম্যালে তিল ধারণের জায়গা নেই এবং আগামী জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত হোটেল একশো শতাংশ বুকড থাকায় বহু পর্যটককে রুম না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি ও মূর্তির মতো এলাকাতেও প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল বুকড হয়ে রয়েছে। পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।