২ জুনের মধ্যে আবেদন করলেই ৩ জুন অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল চর্চিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অফিশিয়াল ফর্ম প্রকাশ করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী এক বিরাট ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হচ্ছে। আর যাঁরা আগামী ২ জুন, মঙ্গলবারের মধ্যে নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগামী ৩ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই সরাসরি (DBT) ৩,০০০ টাকা ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে।
তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই, চালু থাকবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
এক লপ্তে বিপুল পরিমাণ উপভোক্তার টাকা পাওয়ার সুবিধের কথা ঘোষণা করলেও, ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে অযথা হুড়োহুড়ি বা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় না করার জন্য মহিলাদের অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “সবাই টাকা পাবেন। আমাদের অনুমান, উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি থাকবে। এই আবেদন ও স্ক্রুটিনির প্রক্রিয়া আগামী ৯০ দিন ধরে চলবে। আর যতদিন না কোনো উপভোক্তা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত তিনি আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকাই নিয়মমতো পেতে থাকবেন। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই।”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকতেও কেন নতুন করে আবেদন?
আগের সরকারের তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন করে সবাইকে আবেদন করতে হচ্ছে, তার এক বিস্ফোরক কারণ এদিন ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকাটি সম্পূর্ণ ভেরিফাইড বা পরীক্ষিত। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এই নিয়ে বিপুল জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছি। দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকায় নাম নেই, অসংবিধানিক উপায়ে এ দেশে থাকা কিংবা এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল ও সিএএ (CAA)-তে আবেদন করেননি— এমন প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তি এই টাকা পাচ্ছিলেন। যাঁরা ভারতীয় নন, তাঁরা এ রাজ্যের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী প্রকৃত যোগ্য মহিলারাই এই অর্থ পাবেন, আর তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন আবেদন প্রক্রিয়া।”
১৫ জুন থেকে ‘জনকল্যাণ সহায়তা শিবির’, বাড়ি বাড়ি যাবেন বিধায়করা
ফর্ম পূরণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজকে আরও সহজ করতে আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্য জুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ সহায়তা শিবির’ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই শিবিরগুলি থেকে এবং ফর্মের মাধ্যমে উপভোক্তাদের ‘পারিবারিক তথ্য’ বা ফ্যামিলি ডেটাও সংগ্রহ করবে প্রশাসন, যাতে পরবর্তীতে তাঁদের কেন্দ্র ও রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের আওতায় আনা যায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, এলাকার স্থানীয় বিধায়করা এই ফর্ম পূরণ ও ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করবেন। এমনকি যাঁরা নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, সরকারি কর্মীরা তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন।
কোথায় পাবেন এই ফর্ম?
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিস, পঞ্চায়েত বা পুরসভা কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া উপভোক্তারা চাইলে সরাসরি রাজ্য সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://socialsecurity.wb.gov.in থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বাংলা অথবা ইংরেজি ভাষার ফর্মটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। পোর্টালটিতে ফর্ম ডাউনলোডের লিঙ্ক চালু হলেও, অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।