তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে মধুচক্রের আসর! হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিল ক্ষুব্ধ জনতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁতেও বিগত শাসকদলের এক দাপুটে নেতার কুকীর্তি ফাঁস হলো। বনগাঁ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুকুমার রায়ের বাড়ির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ‘মদ ও মহিলা’ নিয়ে মধুচক্র চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠল। দিনের পর দিন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলা এই অনৈতিক কারবারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বুধবার তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় বনগাঁ থানার কালোপুর এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে মুখ না খুললেও, রাজ্যে পালাবদল হতেই এদিন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে ওই কাউন্সিলরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
দিনের পর দিন চলত আসর, ভয়ে চুপ ছিলেন প্রতিবেশীরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালোপুর এলাকায় নিজের বাড়িকে কার্যত মধুচক্রের ডেরা বানিয়ে ফেলেছিলেন কাউন্সিলর সুকুমার রায়। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে বহিরাগত যুবতী ও মহিলাদের আনাগোনা লেগেই থাকত। সেই সঙ্গে চলত অবাধ মদ্যপান ও অসামাজিক কাজকর্ম। এলাকার এক মহিলা বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “কাউন্সিলর সুকুমার বাবু নিজে গাড়ি করে বহিরাগত মহিলাদের নিয়ে আসতেন। এলাকায় তাঁর মারাত্মক রাজনৈতিক দাপট ও গুণ্ডাবাহিনীর ভয় থাকায় আমরা এতদিন মুখ খোলার সাহস পাইনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।”
জনতার রোষের মুখে কাউন্সিলর, উদ্ধার মদের বোতল
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারও একইভাবে সুকুমারের বাড়িতে কিছু অপরিচিত মহিলা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঢুকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। এরপরই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে স্থানীয়দের। শয়ে শয়ে মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে আচমকা ওই কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাও করেন এবং ঘরের ভেতর থেকে সুকুমার রায় সহ বেশ কয়েকজনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে পাকড়াও করেন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় বের করে এনে গণধোলাই দেয়। তাঁর বাড়ি থেকে প্রচুর মদের বোতল ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ।
তদন্তে বনগাঁ থানার পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে কালোপুরের ওই বাড়িতে পৌঁছায় বনগাঁ থানার আইসি (IC)। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে কোনোমতে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং ওই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিচুতলার পুরনেতাদের এমন নৈতিক অবক্ষয় ও গ্রেফতারির ঘটনায় বনগাঁ মহকুমায় তৃণমূল শিবির সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে।