‘টিএমসির ৫০ বিধায়ক ও ২০ সাংসদ বিজেপিতে আসতে চান’! অভিষেককে ‘পাপিষ্ঠ’ বলে বিস্ফোরক দাবি সৌমিত্র খাঁর

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোলের আবহেই এবার জোড়াফুল শিবিরের ভাঙন নিয়ে এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বিষ্ণুপুরের হেভিওয়েট বিজেপি (BJP) সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে, ঠিক তখনই বিষ্ণুপুরের সাংসদের এই দাবি রাজনৈতিক মহলে এক নতুন পারদ চড়িয়ে দিল। তাঁর দাবি, বর্তমান তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ নিজেদের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চরম অসন্তুষ্ট এবং তাঁরা যেকোনো মুহূর্তে বিজেপিতে যোগ দিতে পা বাড়িয়ে রয়েছেন।
‘সবুজ সংকেতের অপেক্ষা, অস্তিত্ব হারাবে তৃণমূল’
বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরে এখন তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে রয়েছেন। সৌমিত্র বাবুর কথায়, “তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্ট। তাঁরা বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। এছাড়াও দলের ২০ জন সাংসদ আমাদের দলে যোগ দিতে চান। এখন শুধু কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা। এই যোগদান পর্ব শুরু হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ
দলের বিধায়ক-সাংসদদের অসন্তোষের কথা বলার পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করেন সৌমিত্র খাঁ। বিগত জমানার একাধিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি সরাসরি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পাপিষ্ট। ওঁর অবিলম্বে জেলে যাওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, এর আগেই বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার বৈঠক থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, দলবদলু বা সুযোগসন্ধানী তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা আপাতত তিন-চার মাসের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ। রাজ্য নেতৃত্বের এই ‘নো এন্ট্রি’ বার্তার মধ্যেই সৌমিত্র খাঁর এই ‘দল ভাঙানোর’ দাবি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে করা এই চরম মন্তব্য রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।