গোবরডাঙায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিপুল টাকা ও অস্ত্রের পাহাড়, তুঙ্গে রাজনৈতিক শোরগোল!

উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও তাঁর ভাইয়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে স্থানীয় তৃণমূল নেতা অজিত সাহা এবং তাঁর ভাই সুজিত সাহাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত অজিত সাহা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর ভাই সুজিত সাহা এলাকায় জমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে তাঁদের বাড়িতে এই তল্লাশি অভিযান চালায়।
উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ও কার্তুজ ঘিরে রহস্য
তল্লাশি অভিযানে সুজিত সাহার বাড়ি থেকে নগদ ২৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। টাকার পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি স্পোর্টস শুটিং বন্দুক, একটি ছোট শটগান, ৫২ বোতল বিদেশি মদ এবং প্রায় ৬০০-রও বেশি তাজা কার্তুজ ও ৬১টি ব্যবহৃত বুলেটের খোল। এই বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র এবং নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। ধৃতদের বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এত টাকা এবং কার্তুজ কোথা থেকে এল এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলি মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ মজুত করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনই জেলার রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শাসকদলের নেতার বাড়ি থেকে এই পরিমাণ বেআইনি সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। যদিও ধৃতদের আইনজীবীর দাবি, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি সম্পূর্ণ বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থও আইন মেনে ব্যাঙ্ক থেকে তোলা হয়েছিল। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।