অন্নপূর্ণার ফর্ম ফিলআপে আর দৌড়ঝাঁপ নয়! কবে কোথায় ক্যাম্প, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং আর্থিক সহায়তা জোগাতে এই নতুন প্রকল্প চালু করছে রাজ্য সরকার, যেখানে যোগ্য প্রক্ষালকরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন। আগামী ১ জুন থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত এই প্রকল্পের আবেদন ও নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া চলবে। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন বিশেষ জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, প্রশাসনের আধিকারিক ও নবনির্বাচিত বিধায়কেরা তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সরাসরি সহযোগিতা করবেন।
লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে রূপান্তর ও কড়া নিয়মাবলী
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ এবং নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পটি চালু থাকবে। তবে অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় নাম ওঠার সাথে সাথেই আবেদনকারীদের পুরনো লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পটির সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী ২ জুনের মধ্যে যাঁদের নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে, তাঁরা চলতি জুন মাস থেকেই এই নতুন প্রকল্পের টাকা পাওয়া শুরু করবেন। প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অভারতীয় নাগরিক, আয়কর দাতা এবং সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। তবে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিকভাবে দুর্বল নারীদের পাশাপাশি সিএএ (CAA) বা এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরাও এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ডাটাবেস তৈরি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন উপভোক্তা তালিকা তৈরি করা, যাতে কেবল প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মহিলারাই এই আর্থিক সুবিধা পান। অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে আবেদনকারীদের পারিবারিক সমস্ত তথ্য বিশদভাবে চাওয়া হয়েছে। এই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের মূল কারণ হলো রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের একটি সঠিক ডাটাবেস বা তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা। সরকারের লক্ষ্য, এই সংগৃহীত পারিবারিক তথ্যকে ভবিষ্যতে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম এবং উন্নয়নমূলক নীতি নির্ধারণের কাজে লাগানো। এর ফলে একদিকে যেমন জালিয়াতি বা অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।