রাজ্য পুলিশে ফের বড়সড় রদবদল, এবার সরানো হলো নন্দীগ্রামের আইসিকে!

রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে ফের বড়সড় রদবদল ঘটানো হলো। এবার বদলি করা হলো নন্দীগ্রাম থানার আইসি শুভব্রত নাথকে। একইসঙ্গে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষ আধিকারিককেও নতুন দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে নন্দীগ্রামে। বুধবার রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিজ নিজ নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এতদিন নন্দীগ্রাম থানার আইসি পদে কর্মরত থাকা শুভব্রত নাথকে সরিয়ে রাজ্য গোয়েন্দা শাখায় পাঠানো হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কাজ করবেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম থানার নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয়কুমার মিশ্রকে। তিনি এতদিন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন। রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক পদমর্যাদার এক শীর্ষ আধিকারিক এই বদলির নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগে এই সরকারি চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক রদবদল
বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রশাসনিক ও পুলিশি রদবদল হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যে এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পর স্বাভাবিক নিয়মেই আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত করতে এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে পুলিশ মহলে এই রদবদল করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নন্দীগ্রামকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নন্দীগ্রাম অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্র থেকেই বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ফলে এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রের পুলিশি প্রশাসনের শীর্ষে বদলি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও সরকারি নির্দেশিকায় এই বদলির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে একটি রুটিন বা নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন সরকারের জমানায় আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করতেই এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হলো।