তীব্র দাবদাহে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে চিনুন শরীরের আগাম সংকেত

দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই অসহনীয় গরমে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হিট স্ট্রোক’। চিকিৎসকদের মতে, এটি এমন একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি যেখানে মানবশরীর নিজের তাপমাত্রা আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সঠিক সময়ে এর লক্ষণ চিনে ব্যবস্থা না নিলে মস্তিষ্ক, কিডনি এবং হার্টের মতো শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি চিরতরে বিকল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং যারা রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
ভুল অভ্যাসেই বাড়ছে বিপদ
গ্রীষ্মকালীন কিছু দৈনন্দিন ভুল অভ্যাস হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তীব্র গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা তৈরি হয়। এছাড়া খালি পেটে বাড়ি থেকে বের হওয়া, দুপুরের কড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করলে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যেতে পারে। গরমের দিনে ভারী বা আঁটসাঁট পোশাক পরা এবং রোদ থেকে ফিরেই আচমকা খুব ঠান্ডা জল বা বরফ দেওয়া পানীয় খাওয়া শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বিগড়ে দেয়, যা সরাসরি হিট স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দেয়।
যেসব উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হবেন
হিট স্ট্রোক হুট করে আঘাত হানার আগে শরীরে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ প্রকাশ পায়, যা অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শরীরে তীব্র জ্বর ভাব, মাথা ঘোরা, চরম ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং কথা জড়িয়ে যায়। এর পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি হঠাৎ বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে যায়, আচমকা ঘাম হওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় কিংবা ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তবে বুঝতে হবে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। এমন উপসর্গ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে আক্রান্তকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।