বাড়তে পারে এটিএমে টাকা তোলার খরচ, বড়সড় চাপে ছোট ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলো!

গ্রাহকদের জন্য এটিএম থেকে টাকা তোলার খরচ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটিএম-এ টাকা সরবরাহকারী ক্যাশ লজিস্টিকস সংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয় বা অপারেটিং কস্ট কমাতে এবার বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে খবর, ক্রমাগত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং কমপ্লায়েন্স খরচ বা নিয়মকানুন মেনে চলার বাড়তি খরচের কারণে আগামী দিনে এই লজিস্টিকস সংস্থাগুলোর ব্যয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সামাল দিতেই মূলত এটিএম ইন্টারচেঞ্জ চার্জ বাড়ানোর দাবি উঠেছে, যা আলটিমেটলি সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে টান ফেলতে পারে।
সহজ কথায়, একজন গ্রাহক যখন নিজের ব্যাঙ্কের পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যাঙ্কের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা তোলেন, তখন গ্রাহকের মূল ব্যাঙ্কটিকে ওই এটিএমের মালিক ব্যাঙ্ককে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। ব্যাঙ্কিং পরিভাষায় একেই ‘এটিএম ইন্টারচেঞ্জ চার্জ’ বলা হয়। লজিস্টিকস সংস্থাগুলোর দাবি, বর্তমানে যে হারে খরচ বাড়ছে, তাতে শুধু কাজের দক্ষতা বা অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো উন্নত করে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আসাম্ভব। ফলে ক্যাশ বা নগদ সরবরাহ পরিষেবাকে দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখতে তারা ‘ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাথে একটি নতুন মূল্য নির্ধারণ চুক্তির জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ কমাতে সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির বদলে স্রেফ গ্রাহক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে টাকা তোলার নতুন লজিস্টিকস মডেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে।
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে তীব্র মতবিরোধ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ফি বাড়ানোর এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশের ব্যাঙ্কিং খাতে স্পষ্ট মতবিরোধ ও দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয়েছে। যেসব বড় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের নিজস্ব এটিএম নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিস্তৃত, তারা এই বাড়তি খরচ সহজে সামাল দিতে পারবে। কারণ তাদের গ্রাহকরা অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করলে যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ আয় তারা অন্য ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের থেকে ইন্টারচেঞ্জ ফি বাবদ তুলে নিতে পারবে। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ছোট ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর ওপর। এই ব্যাঙ্কগুলোর এটিএম সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, তারা নিজেদের এটিএম নেটওয়ার্ক থেকে যা আয় করে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি টাকা ফি হিসেবে বড় ব্যাঙ্কগুলোকে দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে ইন্টারচেঞ্জ চার্জ বাড়লে এই ছোট ও সরকারি ব্যাঙ্কগুলো তীব্র আর্থিক চাপের মুখে পড়বে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি ও গ্রাহক আচরণের ওপরও বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটিএম চার্জ বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষ নগদ লেনদেন কমিয়ে আরও বেশি মাত্রায় ডিজিটাল পেমেন্ট বা অনলাইন লেনদেনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। এর ফলে বাজারে নগদ টাকার ব্যবহার ও ক্যাশ পরিষেবার পরিধি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। লজিস্টিকস কো ম্পা নিগুলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি ফি-র মডেল চাইছে যা ভবিষ্যতের মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে সাধারণ গ্রাহক স্বার্থ ও ছোট ব্যাঙ্কগুলোর আর্থিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে অ্যাসোসিয়েশন এই দাবি কতটা মেনে নেবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।