তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্য রাস্তায়! কাকলিকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মহারানি বলে তীব্র আক্রমণ কল্যাণের

তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্য রাস্তায়! কাকলিকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মহারানি বলে তীব্র আক্রমণ কল্যাণের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ ও দলীয় কোন্দল এবার আক্ষরিক অর্থেই প্রকাশ্য রূপ নিল। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসানোর পর থেকেই দুই শিবিরের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার যখন দলের একাংশের দুর্নীতি ও সাংসদ কল্যাণের বিরুদ্ধে নারী বিদ্বেষের অভিযোগ তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা চাঁচাছোলা ভাষায় বারাসাতের সাংসদকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পাল্টা অভিযোগে সরব শ্রীরামপুরের সাংসদ

দলের অন্দরে থেকে দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে নয়, বরং সরাসরি কাকলির নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পাঁচ লাখ টাকা সবার সামনে নারদা মামলায় নিয়েছেন কাকলি, তাই তিনিই হলেন ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মহারানি’। একইসঙ্গে মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, সংসদে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কাকলির ছিল না। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন না ধরা প্রসঙ্গে কল্যাণের কটাক্ষ, এতদিন যিনি দিদির সামনে ভালো মেয়ে সেজে থাকতেন, তিনি এখন অন্য কারও কাছে ভালো সাজার জন্য এসব বলছেন। কল্যাণের বিরুদ্ধে ওঠা নারী বিদ্বেষের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাঁর পাল্টা দাবি, কাকলি নিজেই অত্যন্ত কু-কথা ও গালাগাল দেন, যা কোনো মহিলার মুখে শোভা পায় না।

রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রভাব ও দলবদলের জল্পনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার দুই শীর্ষস্তরের নেতার এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কার মুখে ফেলেছে। একদিকে যখন নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক ইস্যুতে দল ব্যাকফুটে, তখন দলের অভ্যন্তরে এই ধরনের বিদ্রোহ ও কড়া ভাষার আক্রমণ নীচু তলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। বিশেষ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ মন্তব্য— যেখানে তিনি বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ্য করে ‘কে ভালো তৃণমূল আর কে খারাপ তৃণমূল’ তা ঠিক করার কথা বলেছেন, তা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সম্ভাব্য দলবদলের জল্পনাকে আরও উস্কে দিল। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে আগামী দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের ঐক্য এবং বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *