আসন্ন এল নিনোর থাবা, ২০২৬ সালের বর্ষায় বড়সড় খরা ও চরম সংকটের মুখে ভারতের কৃষিক্ষেত্র

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে জমতে থাকা বিপুল তাপশক্তি এবার ঘুম কাড়তে চলেছে ভারতের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘লা নিনা’র বিদায়ের পর মে মাস থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিয়োরোলজি এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ওসিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক পূর্বাভাস অনুযায়ী, অত্যন্ত দ্রুত ভারতের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসছে জলবায়ুগত খলনায়ক ‘এল নিনো’। মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এর আগমনের সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ, যা বছরের শেষে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৬ শতাংশে। এই চরম সতর্কবার্তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি। কৃষিক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও মোকাবিলা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন দেশের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
কী এই এল নিনো এবং কেন এই উদ্বেগ
এল নিনো কোনো আকস্মিক ঝড় বা নির্দিষ্ট মরশুম নয়; এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধীরগতির জলবায়ুগত পরিবর্তন। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের জল যখন স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে, তখনই বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যায়। এর জেরে কোথাও দেখা দেয় চরম খরা, আবার কোথাও উথাল-পাথাল অতিবৃষ্টি। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে জমে থাকা বিপুল তাপশক্তি উপরের দিকে উঠে আসছে, যা একটি অতি শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র স্পষ্ট ইঙ্গিত।
কৃষিতে বিপর্যয় ও থমকে যাওয়া অর্থনীতি
ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর হাত ধরে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাত সম্পন্ন হয়। এই বৃষ্টির ওপর নির্ভর করেই উৎপাদিত হয় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ খরিফ শস্য। কিন্তু এল নিনো সক্রিয় হলে সাধারণত বর্ষার দ্বিতীয় অর্ধে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ইতিমধ্যেই দেশে বর্ষা ঢুকতে দেরি হওয়ায় তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ মানুষ। এর ওপর এল নিনোর প্রভাবে যদি বৃষ্টিপাত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, তবে দেশের একটি বড় অংশ জুড়ে তীব্র খরার পরিস্থিতি তৈরি হবে। চাষাবাদ ব্যাহত হলে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্য সুরক্ষা ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর।