সপ্তাহভর অপেক্ষার দিন শেষ, এটিএম-ইউপিআই থেকেই তোলা যাবে পিএফের টাকা!

চাকরিজীবীদের ভবিষ্যতের সঞ্চয় এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফের টাকা তোলার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। পিএফের টাকা তোলার জন্য গ্রাহকদের যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো, তা এখন অতীত। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) তাদের ৮ কোটিরও বেশি কন্ট্রিবিউটারের জন্য নিয়ে আসছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ‘EPFO 3.0’ ব্যবস্থা। নতুন এই প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকেরা কো ম্পা নির অনুমোদন ছাড়াই সরাসরি এটিএম কিংবা ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে মিনিটের মধ্যেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে পারবেন।
নতুন নিয়মে গ্রাহকরা তাদের পিএফ ব্যালেন্সের শতভাগ পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া জানিয়েছেন, ইউপিআই-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পিএফের টাকা পাঠানোর এই নতুন ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কাজ ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ভোগান্তি দূর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার
বর্তমান ব্যবস্থায় পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গ্রাহকদের দীর্ঘ ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। পোর্টালে ফর্ম ৩১ পূরণ করা, কেওয়াইসি (KYC) যাচাইকরণ এবং কো ম্পা নির অনুমোদনের জন্য সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যায়। নথিপত্রে সামান্য ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এছাড়া, ১ লক্ষ টাকার বেশি উত্তোলনের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল যাচাইয়ের কারণে সময় আরও বেশি লাগে। এই ভোগান্তি দূর করতেই নতুন অটো-সেটলমেন্ট পদ্ধতি আনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে টাকা তোলার সর্বোচ্চ সীমা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে গ্রাহকেরা উমাং (UMANG) অ্যাপের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য টাকা দেখতে পাবেন এবং পোর্টাল থেকে একটি সুরক্ষিত কিউআর (QR) কোড তৈরি হবে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করে ইউপিআই-এর মাধ্যমে সরাসরি লিঙ্কযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে, যা পরবর্তীতে এটিএম বা অনলাইন পেমেন্টে ব্যবহার করা যাবে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে একটি ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ‘Hello’ পাঠিয়ে চ্যাটবটের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্ট পাওয়ার সুবিধাও চালু করছে ইপিএফও।
টাকা তোলার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা তোলার সুবিধা পেতে গ্রাহকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, কর্মীর ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) এবং পাসওয়ার্ড সক্রিয় ও আপডেট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইপিএফও রেকর্ডের ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক এবং অ্যাকাউন্টটি প্যান ও আধার কার্ডের সাথে লিঙ্কড হতে হবে। এছাড়া সঠিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি (IFSC) কোড, সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নমিনির তথ্য আপডেট থাকা জরুরি।
নতুন নিয়মে চাকরি চলে গেলে বা বেকারত্বের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে ৭৫ শতাংশ টাকা এবং ১২ মাস বেকার থাকলে বাকি ২৫ শতাংশ টাকা তোলা যাবে। এছাড়া অসুস্থতা, শিক্ষা, বিয়ে কিংবা বাড়ি তৈরির মতো জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত আংশিক টাকা তোলার নিয়মকে আরও সহজ করা হয়েছে। গ্রাহকেরা নিজের বা পরিবারের চিকিৎসার প্রয়োজনে একটি অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ তিনবার এই তহবিল থেকে টাকা তুলতে পারবেন।