প্রেমের গভীরতায় বাড়ছে মানসিক দূরত্ব, আপনিও কি ‘পাফার-ফিশিং’-এর শিকার?

জেন জি বা বর্তমান প্রজন্মের ডেটিংয়ের দুনিয়ায় ইদানীং একটি নতুন মনস্তাত্ত্বিক সংকটের নাম বহুল চর্চায় উঠে আসছে, যা ‘পাফার-ফিশিং’ নামে পরিচিত। সম্পর্কের শুরুতে যেখানে থাকে চরম ঘনিষ্ঠতা এবং আবেগের ঘনঘটা, সম্পর্ক কিছুটা গভীর হতেই সেখানে দেখা দিচ্ছে আকস্মিক দূরত্ব। কোনো রকম কারণ ছাড়াই সঙ্গীর নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার এই প্রবণতা আধুনিক প্রেমের সম্পর্কে এক বড়সড় জটিলতা তৈরি করছে।
পাফার-ফিশিং মনস্তত্ত্বের মূল কারণ
মনোবিদ ও লেখিকা কাটি মর্টনের মতে, এই ধরনের আচরণের সঙ্গে সমুদ্রের পাফার মাছের আত্মরক্ষামূলক স্বভাবের হুবহু মিল রয়েছে। পাফার মাছ যেমন বিপদ দেখলেই নিজেকে ফুলিয়ে কাঁটাযুক্ত বল বানিয়ে ফেলে, ঠিক তেমনি সম্পর্কে থাকা একদল মানুষ অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতাকে এক অদৃশ্য বিপদ হিসেবে গণ্য করেন। সম্পর্ক যখনই সিরিয়াস বা স্থায়ী রূপ নিতে শুরু করে, তখনই তাঁদের মনে স্বাধীনতা হারানোর ভয় কাজ করে। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে তাঁরা চারপাশে এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল তুলে নেন এবং সঙ্গীর থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণের চোরাস্রোত লুকিয়ে থাকে মূলত শৈশবের অভিজ্ঞতায়। যাঁরা ছোটবেলায় অবহেলা বা অস্থির পারিবারিক পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন, তাঁদের মনে এই ভয়টা জাঁকিয়ে বসে থাকে। ফলে তাঁরা কাউকে সহজে বিশ্বাস করতে পারেন না এবং সম্পর্ক গভীর হলেই খাঁচায় বন্দি হওয়ার আশঙ্কায় ভুগতে থাকেন। এর ফলে শুরু হয় অতিরিক্ত কাছে আসা এবং পরক্ষণেই যোজন দূরে চলে যাওয়ার মতো ‘হট-অ্যান্ড-কোল্ড’ আচরণ।
সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও মুক্তির উপায়
যোগাযোগের অভাব এবং হঠাতই উধাও হয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা অপর সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আচমকা এই দূরত্বের কারণে অন্য মানুষটি তীব্র মানসিক হীনমন্যতা ও একাকীত্বে ভুগতে শুরু করেন। এই জটিলতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো ভয় পেয়ে পালিয়ে না গিয়ে মুখোমুখি বসে খোলামেলা আলোচনা করা। সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করতে এবং এই মানসিক দূরত্ব ঘোচাতে স্পষ্ট যোগাযোগ ও একে অপরের ভয়কে বোঝার মানসিকতাই একমাত্র কার্যকর ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে।