কোমরে দড়ি, বারমুডা পরা তৃণমূল নেতাকে বীজপুরে ঘোরাল পুলিশ

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ সিংয়ের পর এবার বীজপুরেও দেখা গেল পুলিশের সেই ‘বারমুডা মডেল’। বীজপুরের দাপুটে তৃণমূল যুব নেতা বনিকে গ্রেপ্তার করার পর স্যান্ডো গেঞ্জি ও বারমুডা পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে গোটা এলাকায় ঘোরাল বীজপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঁচরাপাড়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ যখন ধৃতকে নিয়ে এলাকায় ঘোরে, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেয়।
দ্রুত উত্থান ও রাজনৈতিক প্রভাব
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ব্যারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে সমাজমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল এই বনি। তারপর থেকেই এলাকায় তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। একসময় রেলপুলিশের কোয়ার্টার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে এলাকায় বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। প্রথমে কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তীতে তৎকালীন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিকের অনুগামী হিসেবে বনি নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে।
গ্রেপ্তারের কারণ ও ভবিষ্যতের প্রভাব
সরকার বদলের পর পুরনো একটি আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় বীজপুর থানার পুলিশ বনিকে মন্দারমণি থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থেই বৃহস্পতিবার তাকে কাঁচরাপাড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে। এই বারমুডা মডেলের মাধ্যমে অপরাধীদের জনসমক্ষে ঘুরিয়ে পুলিশ মূলত সমাজের কাছে একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো অপরাধীদের দাপট কমাতে এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।