এসে গেল জগন্নাথদেবের রথযাত্রার দিনক্ষণ, পুরী থেকে মাহেশে তুঙ্গে প্রস্তুতি

এসে গেল জগন্নাথদেবের রথযাত্রার দিনক্ষণ, পুরী থেকে মাহেশে তুঙ্গে প্রস্তুতি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ২০২৬ সালের এই পুণ্য উৎসবকে কেন্দ্র করে ভারতের ওড়িশার পুরী, পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ এবং ইস্কন মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বনেদি বাড়ি ও উপাসনালয়গুলোতে এখন সাজসাজ রব। স্নানযাত্রা থেকে শুরু করে সোজা ও উল্টো রথযাত্রার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতেই ভক্তকুলের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার পৌরাণিক গুরুত্ব

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার স্নানযাত্রার দিনটিকে জগন্নাথ মহাপ্রভুর জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। প্রচলিত লোকবিশ্বাস রয়েছে যে, এই দিন মহাস্নান করানোর পর তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন শ্রীজগন্নাথ। এরপর নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত নিভৃতবাসে কাটিয়ে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে তিনি সুস্থ হয়ে প্রকাশ্যে আসেন। এই বিশেষ তিথিতেই দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে রথে চড়ে মাসির বাড়ি তথা গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন মহাপ্রভু, যা ‘সোজা রথযাত্রা’ নামে পরিচিত। সেখানে সাত দিন অবস্থানের পর দেবতারা যখন পুনরায় মূল মন্দিরে ফিরে আসেন, তাকে বলা হয় ‘উল্টো রথ’ বা পুনর্যাত্রা। এছাড়া দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনে প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিতেও এই উৎসব আয়োজিত হয়।

উৎসবের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব

জগন্নাথধাম পুরীতে প্রতি বছর তিন দেবতার জন্য তিনটি বিশালাকার নতুন রথ নির্মাণ করা হয়, যা দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠার সঙ্গে এই রথের দড়িতে টান দিলে মানুষ জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় জোয়ার আসে। রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয় এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে বহু জায়গায় যাত্রাপালার মঞ্চস্থের রীতি এখনও সচল রয়েছে।

সোজা ও উল্টো রথযাত্রার চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট

চলতি বছরের উৎসবের সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুন (১৪ জ্যৈষ্ঠ), সোমবার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ জুন রাত ২টা ৪৬ মিনিট থেকে শুরু হয়ে এই পূর্ণিমা তিথি বজায় থাকবে ২৯ জুন শেষরাত্রি ৪টে ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

পরবর্তীকালে নিভৃতবাস শেষে আগামী ১৬ জুলাই (৩১ আষাঢ়), বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে সোজা রথযাত্রা উদযাপিত হবে। এই উৎসবের দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ জুন দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে এবং তা স্থায়ী হবে ১৬ জুন সকাল ১১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। এর ঠিক আট দিনের মাথায় আগামী ২৪ জুলাই (৭ শ্রাবণ), শুক্রবার দেবতারা পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথের মাধ্যমে নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *