বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক দুর্গে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া, যাদবপুরে এই প্রথম পালিত হলো সাভারকরের জন্মবার্ষিকী

ঐতিহাসিকভাবে বাম ছাত্র রাজনীতির অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও আদর্শগত পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবার সাভারকরের জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো ক্যাম্পাস চত্বরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ক্যাম্পাসে ডানপন্থী প্রভাবের বিস্তার
সাভারকরের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি গোটা ক্যাম্পাস মুড়ে ফেলা হয়েছে জাতীয়তাবাদী গ্রাফিটি ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) পতাকায়। শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ভেতরে আরএসএস-এর শাখা তৈরি হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অ্যাক্টিভ দেখা গেছে ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্টকেও (এনএসএফ)। ক্যাম্পাসের দেওয়ালে যেখানে একসময় বামপন্থী বা ভিন্নধর্মী স্লোগান শোভা পেত, সেখানে এখন স্থান করে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী প্রচার।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আদর্শগত সমীকরণের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসটিতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর একচেটিয়া প্রভাব থাকলেও, বর্তমান সময়ে ডানপন্থী ছাত্র ও আদর্শ গোষ্ঠীগুলির সাংগঠনিক তৎপরতা এবং প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে ক্যাম্পাসের ভেতরে বিভিন্ন বিতর্কিত গ্রাফিটি দেখা গেলেও, বর্তমান রাজনৈতিক আবহে শিক্ষার্থীরা এখন প্রকাশ্যে জাতীয়তাবাদের প্রচার শুরু করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ক্যাম্পাস জুড়ে এবিভিপি ও আরএসএস-এর এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি আগামী দিনে যাদবপুরের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতিতে এক বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই গ্রাফিটি ও সাভারকরের জন্মবার্ষিকী পালন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।