২২ বছর বয়সে ষষ্ঠ সন্তান! শুধু একটি ছেলের আসায় তরুণীর জীবন ঘোর সংকটে

২২ বছর বয়সে ষষ্ঠ সন্তান! শুধু একটি ছেলের আসায় তরুণীর জীবন ঘোর সংকটে

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সমাজ যে এখনও পুত্রসন্তানের মোহ থেকে বেরোতে পারেনি, তার এক জলজ্যান্ত ও মর্মান্তিক উদাহরণ সামনে এল উত্তরপ্রদেশে। সংসারের হাল ধরতে এবং বংশের ধারা বজায় রাখতে একের বেশি ছেলে চাই, এই অন্ধবিশ্বাসে মাত্র ২২ বছর বয়সেই ষষ্ঠবারের মতো মা হতে চলেছেন এক তরুণী। সম্প্রতি চিকিৎসক প্রজ্ঞা তোমারের সমাজমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বাল্যবিবাহ ও ক্রমাগত গর্ভধারণের নির্মম বাস্তবতা

ভিডিওর তথ্যানুযায়ী, রাজস্থানের বাসিন্দা ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর বয়সে, যা আইনত দণ্ডনীয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে চলে আসেন তিনি। বর্তমানে ২২ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি চার কন্যা ও এক পুত্রসহ পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়ে ফেলেছেন। চিকিৎসকের প্রশ্নের জবাবে তরুণী জানান, একটি পুত্রসন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী আরও একটি ছেলে চান। কারণ হিসেবে তাঁর স্বামীর দাবি, একটি ছেলে একা সংসার ও পরিবার সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বংশরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ওই তরুণীকে পুনরায় গর্ভধারণে বাধ্য করা হয়েছে।

ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ও চরম ঝুঁকির পূর্বাভাস

বারংবার এবং অত্যন্ত কম সময়ের ব্যবধানে গর্ভধারণের ফলে ওই তরুণীর শরীর এখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তীব্র শ্বাসকষ্ট, মাথা ঝিমঝিম করা এবং ক্রনিক শরীর ব্যথার মতো একাধিক গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, এত কম বয়সে পুষ্টির চরম ঘাটতি নিয়ে বারবার মা হওয়ার কারণে ওই তরুণী এবং তাঁর অনাগত সন্তান, উভয়ের জীবনই চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চিকিৎসকের পক্ষ থেকে এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তির মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি; তিনি নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন।

সামাজিক প্রভাব ও সচেতনতার অভাব

এই ঘটনাটি ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও রয়ে যাওয়া লিঙ্গবৈষম্য, শিক্ষার আলো না পৌঁছানো এবং পরিবার পরিকল্পনার অভাবকে স্পষ্টভাবে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কন্যাসন্তানকে এখনও অনেকে ‘পরের ধন’ বা ‘আর্থিক বোঝা’ মনে করেন, যার ফলে একের পর এক পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা নারীর শরীর ও জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

ইন্টারনেটে ভিডিওটি প্রায় ৬ লক্ষের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে আধুনিক সমাজের এক বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন এবং ২২ বছর বয়সী একজন তরুণীর ওপর এই অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *