উত্তরের দিন শেষ, নাবালিকা ধর্ষণে আশারামের আজীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে যোধপুর জেলে ফেরাল হাইকোর্ট

উত্তরের দিন শেষ, নাবালিকা ধর্ষণে আশারামের আজীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে যোধপুর জেলে ফেরাল হাইকোর্ট

নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু আশারাম বাপুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালতের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেন ৮৫ বছর বয়সী এই বিতর্কিত ধর্মগুরু। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত থাকা আশারামের আবেদনের মেয়াদ আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত থাকলেও, বুধবার হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চ তাঁর আপিল খারিজ করে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।

আইনি লড়াই ও সাজা বহালের কারণ

২০১৩ সালে যোধপুরের একটি আশ্রমে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ ওঠে আশারামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ইন্দোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৮ সালে যোধপুরের বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত আশারামকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দেয়। নিম্ন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু। মাঝখানে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন পেলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। হাইকোর্ট তাঁর অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিম্ন আদালতের কঠোর সাজাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যা আইন ও বিচারের জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক প্রভাব ও অনুগামীদের উন্মাদনা

এই রায়ের ফলে ভারতের বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত প্রভাবশালী ও স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের অন্ধ আনুগত্যের আড়ালে হওয়া অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি কঠোর বার্তা। তবে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন এবং জঘন্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও আশারামের অন্ধ ভক্তদের উন্মাদনায় কোনো ভাটা পড়েনি। বৃহস্পতিবার জেলে যাওয়ার পথেও গাড়ির ভেতর থেকে অনুগামীদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে আশীর্বাদ করতে দেখা যায় তাঁকে। এই ঘটনাটি সমাজে ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ আড়ালের এক দীর্ঘস্থায়ী মানসিকতাকে স্পষ্ট করে তোলে, যা আগামী দিনে আইনি কঠোরতার মাধ্যমে ভাঙা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *