কুর্সি ছাড়লেও কর্নাটক কংগ্রেসের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন সিদ্দারামাইয়া!

কুর্সি ছাড়লেও কর্নাটক কংগ্রেসের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন সিদ্দারামাইয়া!

কর্নাটকের রাজনীতিতে ক্ষমতার হাতবদল হলেও এখনই আড়ালে চলে যাচ্ছেন না বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেও রাজ্য রাজনীতির রাশ নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চাইছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। শুক্রবার কংগ্রেস হাই কমান্ড তথা রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি নিজের দাবি-দাওয়ার একটি দীর্ঘ তালিকা পেশ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্দারামাইয়া কুর্সি ছাড়লেও একেবারে শূন্য হাতে মাঠ ছাড়তে নারাজ। হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানজনকভাবে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি দিল্লির রাজনীতিতে যেতে অনিচ্ছুক এবং কর্নাটকের বুকেই স্থায়ীভাবে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে চান।

পুত্র যতীন্দ্রর জন্য বড় পদের দাবি

সিদ্দারামাইয়ার দেওয়া তালিকার অন্যতম প্রধান আর্জি হলো, হবু মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের নতুন ক্যাবিনেটে তাঁর পুত্র যতীন্দ্র সিদ্দারামাইয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সিদ্দারামাইয়া যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন শিবকুমারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো—যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অনগ্রসর জাতি কল্যাণ, শিল্প কিংবা জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যেকোনো একটি যেন তাঁর পুত্রকে দেওয়া হয়, সেই দাবি জোরালোভাবে জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি বিধান পরিষদের (এমএলসি) সদস্য পদ এবং নতুন মন্ত্রিসভায় কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তার একটি রূপরেখাও হাই কমান্ডের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।

প্রভাব বিস্তারের সুদূরপ্রসারী কৌশল

এই ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পেছনে সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীদের আনুগত্যও একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বের জন্য হাই কমান্ড থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলিকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। এর থেকে স্পষ্ট, পদত্যাগ করলেও দলের ভেতরে সিদ্দারামাইয়ার একক আধিপত্য এখনো কতটা মজবুত।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করে উত্তরসূরি হিসেবে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন সিদ্দারামাইয়া। বৈঠক শেষে শিবকুমার তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণামও করেন। তবে বিদায়ের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্দারামাইয়ার এই শর্তসাপেক্ষ সমঝোতার তালিকা হবু মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের জন্য আগামী দিনে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *