রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা উধাও, এবার কি বেসরকারি বাউন্সারের ভরসাতেই অনুব্রত মণ্ডল!

রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা উধাও, এবার কি বেসরকারি বাউন্সারের ভরসাতেই অনুব্রত মণ্ডল!

বীরভূমের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বর্তমান জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা বলয় থেকে সম্পূর্ণ সরে গেল রাজ্য পুলিশ। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর অবশেষে তাঁর জন্য বরাদ্দ শেষ সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীটিকেও প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্রশাসন। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর বীরভূমের রাজনৈতিক অলিন্দে যেমন শোরগোল পড়ে গিয়েছে, তেমনই অনুব্রতের ঘনিষ্ঠ মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সির দ্বারস্থ হতে শুরু করেছেন তাঁর অনুগামীরা।

ধাপে ধাপে ছাঁটাই এবং চূড়ান্ত প্রত্যাহার

অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা এক ধাক্কায় শূন্য করা হয়নি, বরং বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছিল। একটা সময় বীরভূমের এই প্রভাবশালী নেতা ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর সুরক্ষায় সর্বদা মোতায়েন থাকত রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল এবং তাঁর বাড়িতেও থাকত সার্বক্ষণিক হাউস গার্ড। প্রথমে সেই ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা তুলে নিয়ে তা কমিয়ে আনা হয় মাত্র একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীতে। প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেই শেষ রক্ষীটিকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে কোনো রকম সরকারি নিরাপত্তা ছাড়াই রয়েছেন তিনি।

বীরভূমের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনাটি কেবলই রুটিন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণ। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও জেল হেফাজত কাটিয়ে ফেরার পর জেলা রাজনীতিতে তাঁর আগের সেই একচ্ছত্র আধিপত্যে অনেকটাই ভাঁটা পড়েছে। একই সাথে বীরভূমের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যও অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তবে প্রশাসনের এই কোপ শুধু অনুব্রতের ওপরই পড়েনি; জেলার অন্য দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা—জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং চন্দ্রনাথ সিংহের নিরাপত্তা থেকেও পাইলট কার, এস্কর্ট ও হাউস গার্ডের সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘনিষ্ঠ মহলে উদ্বেগ ও বিকল্পের খোঁজ

সরকারি নিরাপত্তা পুরোপুরি চলে যাওয়ায় অনুব্রতের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত তাঁর অনুগামীরা। জনবহুল এলাকায় যাতায়াত বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন একমাত্র ভরসা বেসরকারি ব্যবস্থা। সেই কারণেই তড়িঘড়ি পেশাদার বেসরকারি দেহরক্ষী বা বাউন্সারের খোঁজ শুরু হয়েছে। তবে রাজ্য পুলিশের এই চরম সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডল নিজে এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *