১০ মিনিটের ফাঁকেই শেষ হতো ‘আসল খেলা’, দেশ ছাড়ার আগে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল অনুপ্রবেশকারীরা

১০ মিনিটের ফাঁকেই শেষ হতো ‘আসল খেলা’, দেশ ছাড়ার আগে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল অনুপ্রবেশকারীরা

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করে অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাকের প্রক্রিয়া শুরু হতেই সীমান্ত এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন চিত্র। আইনি জটিলতা ও শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বাংলাদেশিরা নিজেদের দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে উত্তর চব্বিশ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে এখন বাংলাদেশিদের স্বদেশে ফেরার হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে দেশ ছাড়ার আগে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে প্রবেশের যে চাঞ্চল্যকর কৌশল ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের কথা ফাঁস করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মাত্র ১০ মিনিটের সুযোগ ও সীমান্ত পারাপার

ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে ভারতে প্রবেশ করার জন্য দালাল চক্র অত্যন্ত সুক্ষ্ম পরিকল্পনা সাজাত। বিএসএফের টহলদারির মাঝে মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাময়িক বিরতি বা ‘গ্যাপ’ থাকে। যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যান, ঠিক সেই শূন্য সময়ের সুযোগ নিত অনুপ্রবেশকারীরা। দালালদের নিখুঁত নির্দেশনায় রাতের অন্ধকারে বা নদী পার হয়ে মাত্র ১০ মিনিটের এই নির্দিষ্ট সময়েই ‘আসল খেলা’ অর্থাৎ অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পন্ন করা হতো।

ভুয়ো নথির নেটওয়ার্ক ও রাজনৈতিক যোগসূত্র

অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, সীমান্ত পার করার পর ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সক্রিয় ছিল একটি সুসংগঠিত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক। অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রের সাথে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মীরাও সরাসরি যুক্ত ছিলেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের জন্য আধার বা ভোটার কার্ডের মতো ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। এই জাল নথির ওপর ভর করে তারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট পর্যন্ত দিয়েছেন বলে অনুপ্রবেশকারীরা স্বীকার করেছেন।

কড়া প্রশাসনিক অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবেই আর ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকেই সোজা পুশব্যাক করা হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, যারা নিজে থেকেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে একদিকে যেমন সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সিন্ডিকেট ও জাল নথির কারবার ধাক্কা খেয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় এক বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *