রেকর্ড প্রাইজমানির ঝনঝনানি নিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ

রেকর্ড প্রাইজমানির ঝনঝনানি নিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ

বহু প্রতীক্ষিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ উদ্যোগে বসতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা আসর। এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দেশ শিরোপার লড়াইয়ে নামবে। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর যেমন সোনালী ট্রফির দিকে, তেমনই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সামনে রয়েছে আরও এক বিশাল আকর্ষণ। আর তা হলো টুর্নামেন্টের রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি, যা অতীতের সব আর্থিক হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিচ্ছে।

ভেঙে গেল অতীতের সব রেকর্ড

এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে পুরস্কারের মোট অর্থের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের ৪৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি পুল এবার প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফুটবলকে আরও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮-এ উন্নীত করা। দল বৃদ্ধির কারণে স্পনসরশিপ, টিকিটের চাহিদা এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফিফার আয় ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রাইজমানি পুলে।

আসন্ন টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে অবিশ্বাস্য ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার। রানার্স-আপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানাধিকারী দল পাবে যথাক্রমে ২৯ মিলিয়ন এবং ২৭ মিলিয়ন ডলার।

খালি হাতে ফিরবে না কেউ

ফিফার নতুন এই নীতিমালার ফলে কেবল বড় দলগুলোই নয়, বরং ফুটবল মানচিত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা দেশগুলোও আর্থিকভাবে অভাবনীয় লাভবান হবে। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ৪টি দলের ঝুলিতে যাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। রাউন্ড অব ১৬-র আটটি দল পাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রথমবারের মতো আয়োজিত রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দলের প্রতিটি পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার করে। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেলেও প্রতিটি দল নিশ্চিতভাবে সর্বনিম্ন ৯ মিলিয়ন ডলার বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে।

এই পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রাইজমানি ছাড়াও দলগুলোর জন্য রয়েছে আরও কিছু আর্থিক সুবিধা। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার জন্য প্রতিটি দেশ পাচ্ছে ১০ মিলিয়ন ডলারের কোয়ালিফিকেশন বোনাস এবং ২.৫ মিলিয়ন ডলারের পার্টিসিপেশন বা অংশগ্রহণ ফি। সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য ফিফার মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭১ মিলিয়ন ডলার, যা ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিশ্বের ক্ষুদ্র ও উদীয়মান ফুটবল ফেডারেশনগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *