শুভেন্দুর বৈঠকে গুরুংরা, বর্ষার আগে পাহাড়ে ৩ লক্ষ কোটির মাস্টারপ্ল্যান ও প্রশাসক নিয়োগ

নবান্নের সভাঘরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাহাড়ের রাজনীতি ও উন্নয়নে নতুন সমীকরণের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত হলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষনেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরিরা। বর্ষার আগাম প্রস্তুতি, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং পাহাড়ের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং জিটিএ-র পদস্থ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিমল গুরুংদের এই বৈঠকে উপস্থিতি পাহাড়ের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন ধরে জিটিএ-র কাজের গতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসক ও উন্নয়ন বরাদ্দ
পাহাড়ের বাসিন্দাদের নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। দার্জিলিং বাদে পাহাড়ের বাকি তিন পুরসভা— কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিকে আপাতত প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পংকে আরও উন্নত করতে সেখানে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানীয় জল, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
বর্ষার বিপর্যয় রুখতে কড়া নজরদারি
বর্ষার মরসুমে পাহাড়ে ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা মাথায় রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে আগেভাগেই চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং পর্যটন থমকে না যায়, তার জন্য রাস্তা মেরামত ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ বর্ষার আগেই শেষ করতে বলা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধারকারী দলকেও প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।