সাংবাদিক হত্যা ও ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্ক, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মির্জা ফখরুল

সাংবাদিক হত্যা ও ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্ক, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর এবার তাঁর আমলেই বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। খোদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির এই দাবি তুলে ইউনুস সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বয়ং উপদেষ্টাদের বিস্ফোরক মন্তব্যে ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহল এখন উত্তাল।

সাংবাদিক নিগ্রহ ও মৃত্যুর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব আয়োজিত এক সভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির দাবি করেন, মহম্মদ ইউনুসের আমলে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই সাংবাদিকরা চরম নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই সময়ে বহু সাংবাদিককে প্রাণ হারাতে হয়েছে এবং গণমাধ্যমের কর্মীরা সর্বতোভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এই বক্তব্য দেশের তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

নেপথ্যে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ও প্রশাসনিক স্থবিরতা

মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে শুধু মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং স্বৈরাচারী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। জানা গেছে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মাত্র ৭ সদস্যের একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ গ্রহণ করত। ইউনুসের নিজস্ব উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্বয়ং এই গোপন চক্রের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন। তৌহিদ হোসেনের দাবি, এই কিচেন ক্যাবিনেটের হস্তক্ষেপের কারণে তিনি নিজের দপ্তরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এই ধরণের অনভিপ্রেত নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষার অভাবই ইউনুস সরকারের পতনের অন্যতম কারণ। উপদেষ্টাদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইউনুস অনুগামীদের আরও বেশি কোণঠাসা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *