দক্ষিণবঙ্গে ধেয়ে আসছে প্রবল দুর্যোগ, ছয় জেলায় জারি চরম লাল সতর্কতা!

দক্ষিণবঙ্গে ধেয়ে আসছে প্রবল দুর্যোগ, ছয় জেলায় জারি চরম লাল সতর্কতা!

মধ্য পাকিস্তান থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা এবং উত্তর ওড়িশা সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের কারণে দক্ষিণবঙ্গে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় আগামী দুই দিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিমাণ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এই বৈরী আবহাওয়ার জেরে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং পুরুলিয়া জেলায় চরম সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, শুক্রবার থেকেই এই জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির দাপট প্রবল হবে। সেই সময় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত এবং ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা ওই অঞ্চলে কার্যত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই ছয় জেলা ছাড়াও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি

ভৌগোলিক অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলার কারণে বায়ুমণ্ডলে তৈরি হওয়া তীব্র অস্থিরতাই এই আচমকা দুর্যোগের মূল কারণ। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কালিম্পংয়ে রেকর্ড ৮ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র ঝড়ের ফলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রবল বজ্রপাতের কারণে গ্রামীণ এলাকায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং কাঁচা বাড়ি ও চাষের জমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে মৎস্যজীবীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার ফলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *