উদ্ধার হলো সরকারি ত্রাণ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার, পূর্ব রাজাপুরে সিপিএমের অফিস পুনরুদ্ধারে চাঞ্চল্য

উদ্ধার হলো সরকারি ত্রাণ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার, পূর্ব রাজাপুরে সিপিএমের অফিস পুনরুদ্ধারে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ছয় বছর পর হাতছাড়া হওয়া দলীয় কার্যালয় ফিরে পেল সিপিএম, তবে সেখানে পা রাখতেই চোখ কপালে উঠল বাম নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। সার্ভে পার্ক থানা এলাকার পূর্ব রাজাপুরের এই কার্যালয়টি ২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছিল সিপিএম। সম্প্রতি আইনি লড়াই ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে কার্যালয়টি পুনরুদ্ধার করে তারা। কিন্তু শুক্রবার সেই কার্যালয়ের ভেতরে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর সব সামগ্রী।

কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, হাঁড়ি, কড়াই, স্টোভ এবং কলকাতা পুরসভার লোগো লাগানো প্রচুর বালতি উদ্ধার হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখানে মজুত ছিল একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডারও। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে জমি মিউটেশন সংক্রান্ত প্রচুর সরকারি নথি এবং একটি এয়ারগানের লাইসেন্স। দলীয় কার্যালয় থেকে এই ধরনের সরকারি ত্রাণের সামগ্রী ও প্রশাসনিক নথি উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

সরকারি ত্রাণের অপব্যবহার ও প্রশাসনিক যোগসূত্রের প্রশ্ন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি দলীয় কার্যালয় দখলের লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণের সামগ্রী কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা কার্যালয়ে মজুত রইল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভার বালতি এবং ত্রাণের ত্রিপল উদ্ধারের ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে শাসকদলের নেতাদের যোগসাজশের দিকেই ইঙ্গিত করছে। করোনা আমলের অক্সিজেন সিলিন্ডার কিংবা জমি মিউটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজের নথি একটি বন্ধ বা দখলকৃত রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি জটিলতা

এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি ত্রাণের সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলছে বিরোধী শিবির। অন্যদিকে, জমি মিউটেশনের নথি পাওয়ার বিষয়টি ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের নজরদারির অভাবকে সামনে এনে দিয়েছে। সিপিএম এই উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করে আইনি পদক্ষেপ ও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী কার নির্দেশে সেখানে মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *