১৫ বছরের বর্বরতা ও অভিষেকের অহংকারই এই হামলার কারণ, বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা পাল

১৫ বছরের বর্বরতা ও অভিষেকের অহংকারই এই হামলার কারণ, বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা পাল

বর্বরোচিত হামলার দায় কি তৃণমূলের অহংকারের? বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা পাল

সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনার দায় বিজেপির ওপর চাপানো হলেও, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি তা খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই হামলা রাজনৈতিক কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি তৃণমূলের গত ১৫ বছরের শাসনকাল এবং খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আচরণ ও অহংকারকেই দায়ী করেছেন।

জনরোষের মুখে তৃণমূলের রাজনীতি

অগ্নিমিত্রা পালের মতে, তৃণমূল বিগত ১৫ বছর ধরে যেভাবে পুলিশি দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং শেখ শাহজাহানদের মতো ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দিয়েছে, তা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের নেতারা নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছিলেন এবং শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারীদের প্রতিনিয়ত অপমান করেছেন। বিজেপি নেত্রীর ভাষায়, সাধারণ মানুষ আজ ডিম, জুতো ছুড়ে এবং ধিক্কার জানিয়ে সেই শাসনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ওই এলাকায় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় বিজেপির পক্ষে এমন হামলা চালানো আসাম্ভব এবং ভিত্তিহীন।

পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

অন্যদিকে, এই হামলাকে ‘বিজেপি-পৃষ্ঠপোষিত চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে আহত সাংসদের চিকিৎসায় বাধা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে কেন্দ্রের শাসকদল। একদিকে তৃণমূলের খুনের চেষ্টার অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির জনরোষের তকমা—এই দুই মেরুর প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এবং দায় নিরূপণ নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের এই দড়ি টানাটানি আপাতত রাজনৈতিক উত্তাপকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *