কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নীর রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় প্রেমিক সায়ন

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নীর রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় প্রেমিক সায়ন

সোশাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড় নেটদুনিয়া। গত বৃহস্পতিবার নিজের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই দানা বাঁধছিল নানা রহস্য। অবশেষে এই মৃত্যুর পেছনে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও গভীর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মগরা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন মৃতার মা মলি চক্রবর্তী। সায়নীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের প্রেম ও নির্যাতনের অভিযোগ

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ত্রিবেণীর বাসিন্দা সায়নের সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সায়নীর। দুই পরিবারই এই সম্পর্কের ব্যাপারে অবগত ছিল। সারাদিন হাসিখুশি থাকা এবং মায়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলামেশা করা সায়নী নিজের ভেতরের ঝড় কাউকেই বুঝতে দেননি। তবে সায়নীর বন্ধুদের দাবি, প্রেমিক সায়ন দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি নিয়মিত মদ্যপান করে মারধরও করত। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে ভেবে সায়নী হয়তো এই চরম নির্যাতনের কথা পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে গিয়েছিলেন।

ঘটনার আগের দিন সায়নের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সায়নী। সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন তিনি। মৃতার মায়ের অভিযোগ, ওই দিন সায়নের বাড়িতে নিশ্চয়ই এমন কিছু ঘটেছিল যার মানসিক চাপ নিতে না পেরেই সায়নী আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

তদন্তের মূল চাবিকাঠি চ্যাট ও প্রেমিকের অন্তর্ধান

এই রহস্যমৃত্যুর জট খুলতে এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার সায়নীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন। মলিদেবী জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন থেকে বেশ কিছু চ্যাট উদ্ধার হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তাঁর ওপর কী পরিমাণ মানসিক অত্যাচার চালানো হতো। এই চ্যাটগুলিই পুলিশের তদন্তে মূল চাবিকাঠি হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিক সায়ন এবং তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। অপরাধ না থাকলে কেন তাঁরা এভাবে গা ঢাকা দিলেন, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

সামাজিক প্রভাব ও বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান

সায়নীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় এক শ্রেণীর কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে ভিডিও বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে। ভিউ এবং লাইকের আশায় ঘটনার নানা মনগড়া ব্যাখ্যা ও কাঁটাছেড়া চলছে। এই ঘটনায় ইলিয়াস নামে সায়নীর এক বন্ধুর নাম জড়িয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে সায়নীর ঘনিষ্ঠ মহল স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং সায়নীর কেবলই ভালো বন্ধু ছিলেন। এই ধরনের ভুয়ো তথ্য ও ভিডিওর কারণে শোকগ্রস্ত পরিবারটি আরও বেশি মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সায়নের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *