অভিষেকের ওপর হামলা আদতে তৃণমূলের অন্দরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ! চাঞ্চল্যকর দাবি বিজেপির

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতি তোলপাড়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ যেভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছেন, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। তবে এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শাসকদলকে তীব্র খোঁচা দিয়ে ময়দানে নেমেছে বিরোধী শিবির।
সোনারপুরের এই হামলা প্রসঙ্গে মুখ খুলে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, এটি আদতে তৃণমূলের অন্দরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূলের’ লড়াই। সভ্য সমাজে কোনও ধরণের হিংসা কাম্য নয় উল্লেখ করেও তিনি একে দলের বঞ্চিত ও অভুক্ত কর্মীদের অবদমিত ক্ষোভের ফল বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
হামলার কারণ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের ভেতরে দীর্ঘ বছর ধরে চলা বঞ্চনা এবং দলের একাংশের ‘না পাওয়ার ব্যথাই’ এই আক্রমণের রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে তৈরি হওয়া এই অভ্যন্তরীণ ফাটল এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই সোনারপুরের ঘটনার মূল কারণ। শাসকদলের ওপর আমজনতা ও দলেরই একাংশের এই ক্ষোভ আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা গণপিটুনির শিকার হতে পারেন বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে বিরোধী দল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনের ভূমিকা
এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই হামলা কেবল সোনারপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পড়তে পারে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিরোধীরা যেভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে, তাতে চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, তখন বিজেপির এই ‘তৃণমূলের অন্দরের লড়াই’ তত্ত্ব শাসকদলকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।