সই-কেলেঙ্কারির তদন্তে অভিষেককে তলবের মাঝেই সিআইডির বিশেষ দল গঠন

সই-কেলেঙ্কারির তদন্তে অভিষেককে তলবের মাঝেই সিআইডির বিশেষ দল গঠন

বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার চাঞ্চল্যকর মামলায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলবের মাঝেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করল রাজ্য সিআইডি। পাঁচ সদস্যের এই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার এক শীর্ষ আধিকারিক। এ ছাড়া এই দলে একজন ডিএসপি এবং দুজন ইনস্পেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও অসুস্থতার কারণে তাঁর হাজিরা দেওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে অভিষেক আসার আগেই সিআইডির এই সিট গঠন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাজ্য প্রশাসন এই হাইপ্রোফাইল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে মরিয়া।

তদন্তের সূত্রপাত ও জালিয়াতির নেপথ্যে

ঘটনার সূত্রপাত রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয় এবং উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে তা সমর্থন জানান। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর নিয়ম মেনে সই নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিধানসভার সচিব বিরোধী দলনেতার নাম সংক্রান্ত প্রস্তাবপত্র চাইলে ১৯ মে পুনরায় কালীঘাটে বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয়। সেদিন উপস্থিত বিধায়কদের সই নেওয়ার পর, দলের পক্ষ থেকে ৭০ জন বিধায়কের সই সংবলিত একটি সমর্থনপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। কিন্তু শপথগ্রহণের খাতার সইয়ের সঙ্গে এই প্রস্তাবপত্রের সইয়ে বড় ধরনের গরমিল মেলায় বিধানসভার সচিবের মনে জালিয়াতির সন্দেহ জাগে। এরপরই থানায় এফআইআর দায়ের করা হলে তদন্তের ভার নেয় সিআইডি।

তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যেই বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে নোটিস পাঠিয়েছে। সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতেই সিআইডির এই তৎপরতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কদের সইয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এই গরমিল সামনে আসায় দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও বিশ্বস্ততা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। সিআইডির গঠিত এই সিট যদি দ্রুত জালিয়াতির মূল উৎস এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারে, তবে তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এবং সংশ্লিষ্ট দলটির ভাবমূর্তিতে এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *