মাসের শুরুতেই ধাক্কা! গ্যাসের দাম বাড়তেই রেস্তরাঁর বিল নিয়ে কেন চিন্তায় সাধারণ মানুষ?

নতুন মাসের শুরুতেই আরও মহার্ঘ হল ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস। ভোটপর্ব মিটতেই জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মাঝেই ১ জুন থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় আরও ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের খরচ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেল। তবে মধ্যবিত্তের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর এটাই যে, গৃহস্থালির ব্যবহারের ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা। সোমবার থেকেই এই নতুন সংশোধিত দাম কার্যকর করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ যাতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে সরাসরি না পড়ে, সেই কারণেই গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম এই দফায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির গ্রাফ
বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসের শুরুতেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। চলতি বছরে বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির ধারাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি এক ধাক্কায় ১১১ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি ৪৯ টাকা এবং মার্চ মাসে ৩১ টাকা দাম বাড়ে। এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এক লাফে ২১৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। মে মাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়ে দাম বাড়ে প্রায় ৯৯৩ টাকা। জুনের শুরুতেও সেই ধারা বজায় রেখে আরও ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা দাম বাড়ানো হল।
গ্রাহক ও ব্যবসায়ী মহলে আশঙ্কার মেঘ
মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ, বড় ক্যাটারিং সংস্থা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এই ১৯ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণেই জ্বালানি পণ্যের ওপর এই চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, এই ধারাবাহিক লোকসান ও অতিরিক্ত খরচের বোঝা সামাল দিতে আগামী দিনে রেস্তরাঁর খাবারের দাম ও ক্যাটারিং পরিষেবার খরচ বাড়াতে বাধ্য হবেন তারা। যার জেরে পরোক্ষভাবে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটেই টান পড়তে চলেছে।