আইএসআইয়ের ভয়ঙ্কর ব্লুপ্রিন্ট ফাঁস, উপত্যকার রাজনীতিতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ছক!

আইএসআইয়ের ভয়ঙ্কর ব্লুপ্রিন্ট ফাঁস, উপত্যকার রাজনীতিতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ছক!

জম্মু ও কাশ্মীরে নিজেদের খুঁটি শক্ত করতে এবার এক অভূতপূর্ব এবং ভয়ঙ্কর কৌশল নিয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)। প্রথাগত সন্ত্রাসের রাস্তা বদলে এবার উপত্যকার মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলিতে নিজেদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছে তারা। ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর তৎপরতায় পাকিস্তানের এই নতুন ‘ব্লুপ্রিন্ট’ ফাঁস হতেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা মহলে।

জানা গিয়েছে, আইএসআই উপত্যকার ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (ওজিডব্লিউ) জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলগুলিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, রাজনীতির আড়ালে নিজেদের একটি বৈধ পরিচয় তৈরি করা। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের রক্ষাকবচ ব্যবহার করে কাউন্টার-টেরর সার্ভিল্যান্স বা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে অত্যন্ত গোপনে নতুন জঙ্গি নিয়োগ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে আর্থিক সাহায্য জোগাড় এবং অস্ত্র পাচার করার সুপরিকল্পিত ছক কষেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ বেশ কয়েকজন ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের তল্লাশি করতে গিয়ে তাদের পকেট থেকে জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের কার্ড উদ্ধার করা হয়। এরপরই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে এবং ধৃতদের জেরায় আইএসআইয়ের এই সুগভীর ষড়যন্ত্রের কথা সামনে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে জঙ্গি নেটওয়ার্ক চালানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এই মেম্বারশিপ কার্ডগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

অবশ্য এই কৌশল একেবারে নতুন নয়। এর আগেও ১৯৯০-এর শেষভাগে এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে অনেক জঙ্গি সমর্থক রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ দেখিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করত। এমনকি ২০২০ সালে রিয়াসি জেলা থেকে গ্রামবাসীদের হাতে ধৃত লস্কর-ই-তৈবার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি তালিব হাসান একটি রাজনৈতিক দলের সংখ্যালঘু মোর্চার সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ হিসেবে কাজ করছিল। সে দলীয় পরিচয় ও নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে অবাধে ঘুরে বেড়াত এবং পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন চ্যালেঞ্জ

সাবেক পুলিশ কর্তাদের মতে, রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ থাকায় ওজিডব্লিউ-দের একটি বড় অংশ অনায়াসেই নিরাপত্তা বাহিনীর রাডার থেকে বেঁচে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে বহু জঙ্গি ভুয়ো ভোটার বা পরিচয়পত্র বানিয়ে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা, আইএসআই মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির ভেতরে ওজিডব্লিউ-দের ঢুকিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে সহজে ঢোকার ফাঁদ পাতছে। এর ফলে জঙ্গি কম্যান্ডারদের কাছে লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হয়ে উঠছে। উপত্যকার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সুরক্ষার পাশাপাশি এই নতুন ও জটিল আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়াই এখন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *