জনগণের করের টাকা লুঠ রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া নজরদারির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

জনগণের করের টাকা লুঠ রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া নজরদারির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবার নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রের দীর্ঘ ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি এর পেছনের মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লাখ ভুয়ো নামের হদিশ মিলেছে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে জনগণের অন্তত ৪৫০ কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে।

তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে, যার সঙ্গে পুলিশ কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই বিপুল অর্থ তছরূপের পেছনে সুনির্দিষ্ট চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী থেকে শুরু করে বহু অনুপযুক্ত ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন।

ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক তছরূপের তদন্তে সিট

এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতি রুখতে রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজিপি) একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই দুর্নীতির সাথে বিপুল অঙ্কের অর্থ জড়িত, তাই পুরো বিষয়টি আর্থিক তছরূপ বিরোধী আইনের আওতায় এনে মামলা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল স্তর থেকে তল্লাশি চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

১২ পাতার ফর্মের নেপথ্যে বাড়তি সতর্কতা

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের দৈর্ঘ্য নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী একটি বাস্তব উদাহরণ টেনে বলেন, সাধারণ মানুষ বাজারে ঢেঁড়স কিনতে গেলেও তা টিপে পরীক্ষা করে নেন। সুতরাং, জনগণের করের টাকায় যখন একটি বড় সামাজিক প্রকল্প চালানো হচ্ছে, তখন সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে দেখার।

কাগজে-কলমে ১২ পাতার ফর্ম হলেও আবেদনকারীদের মূলত তিনটি পাতা পূরণ করতে হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এই বাড়তি সতর্কতার মূল উদ্দেশ্য হলো, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো অন্নপূর্ণা যোজনাতেও যেন কোনও ভুয়ো বা অবৈধ প্রাপক ঢুকে পড়তে না পারে। এই কঠোর নজরদারির ফলে ভবিষ্যতে সরকারি কোষাগারের অপচয় বন্ধ হবে এবং শুধুমাত্র প্রকৃত অভাবী মহিলারাই এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *