গ্রেফতার করলেও পিছু হটবেন না মমতা, ২ জুনের কর্মসূচি ঘিরে তপ্ত বাংলার রাজনীতি
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/20/mamata-banerjee-slams-delhi-bjp-government-after-assembly-defeat-kalighat-reaction-2026-05-20-09-01-54.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সদ্য ক্ষমতা হারানোর পর এবার রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সোনারপুরে হওয়া হামলার প্রতিবাদ এবং দলের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ সংকটের আবহে ২ জুনের ধর্ণা কর্মসূচিকে ঘিরে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রানি রাসমণি রোডের সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ বার্তা দিয়েছেন, অনুমতি না মিললেও রাজপথেই হবে ধর্ণা।
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও মমতার কড়া বার্তা
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরেও বড়সড় ঝাঁকুনি দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক বৈঠকের পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের দুই নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে। এই দলবদল ও অন্তর্কলহের আবহে ফেসবুক লাইভে এসে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভয় পেয়ে বা সম্পদের লোভে যারা দল ভাঙার চক্রান্ত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠিন লড়াই লড়বেন। দল নতুনভাবে গঠন করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই খেলায় তিনি নিজেই একজন বড় খেলোয়াড়।
আন্দোলনের ঝাঁজ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল এবং যারা বাঁচাতে গিয়েছিলেন, পুলিশ উলটে তাদেরই গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ২ জুন বেলা ১টা থেকে দলের কর্মী-সমর্থকদের রাজপথে নামার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেখানেই পুলিশ তাকে আটকাবে, সেখানেই ধর্ণা স্থল গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে গ্রেফতার বরণ করতেও তিনি প্রস্তুত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুতির পর এই কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস মূলত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শাসক-বিরোধী সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জায়গা না পেলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করার যে হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন, তা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।