ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ, খোদ কলকাতা পুলিশের তিন কর্মী সাসপেন্ড!

ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ, খোদ কলকাতা পুলিশের তিন কর্মী সাসপেন্ড!

পিসিআর ভ্যানে চেপে টহলদারির আড়ালে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মারাত্মক অভিযোগে কলকাতা পুলিশের তিন কর্মীকে সাসপেন্ড বা নিলম্বিত করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন সাব ইনস্পেক্টর (এসআই), একজন অ্যাসিস্টান্ট সাব ইনস্পেক্টর (এএসআই) এবং পুলিশের গাড়ি চালক। অভিযুক্ত এই তিন জনই উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানায় কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার।

ডিজিটাল প্রমাণেই ফাঁস কীর্তি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শ্যামপুকুর এলাকার কিছু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগ আসছিল পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কাছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্তে নামেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তে পিসিআর ভ্যানের জিপিএস লোকেশন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়। প্রযুক্তিগত এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পর ওই তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের সমর্থনে জোরালো প্রমাণ মেলে। এরপর অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যার জেরে তাঁদের দ্রুত সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলায় প্রভাব

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন, উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সামগ্রী। এই আবহে খোদ রক্ষকদের ভক্ষক হয়ে ওঠার এই ঘটনায় পুলিশের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পুলিশের ওপর আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে তেমনই পুলিশ মহলে অপরাধমূলক প্রবণতা হ্রাসে এটি একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *