অভিষেকের উপর হামলা: চিহ্নিত ১১ হামলাকারী, নেপথ্যে বিজেপির যোগ!

অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় বিজেপি যোগ, চিহ্নিত ১১ হামলাকারী
সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল তদন্তে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন ভিডিও খতিয়ে দেখে মোট ১১ জনকে চিহ্নিত করেছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, চিহ্নিত হওয়া অভিযুক্তদের অধিকাংশের সঙ্গেই সরাসরি বিজেপি যোগ রয়েছে এবং তারা গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন পদে আসীন।
হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগসূত্র
তৃণমূলের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সুস্মিতা দত্ত, তিয়াসা বিশ্বাস, বাপি মাঝি, অভিজিৎ বিশ্বাস, কৃষ্ণেন্দু সরকার, অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমন দত্ত, সুদীপ হালদার, আকাশ গায়েন এবং নীলাঞ্জন সরকার। এদের মধ্যে অভিজিৎ বিশ্বাসকে এই হামলার মূল চক্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল। হামলার দিন দুপুর থেকেই কামরাবাঁধ এলাকায় ডিম ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লোকজন জড়ো হওয়ার বিষয়টি ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আঁচ পাওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
নিরাপত্তায় গাফিলতি ও রাজনৈতিক উত্তাপ
এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাংসদের ওপর আক্রমণের নেপথ্যে কাদের উস্কানি ছিল। হেলমেট না থাকলে অভিষেকের বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই হামলাকে কেবল স্থানীয় ক্ষোভ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে শাসকদল। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার এবং সোনারপুর থানার আইসি-র ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের দলীয় পদ ও অতীতে অশান্তির ঘটনায় তাদের সক্রিয় যোগ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।