ফের পিছল দেশে বর্ষার আগমন, কেরলে প্রবেশ ৩ জুনের পরে!

নির্দিষ্ট দিন পেরিয়ে গেলেও দেশের মূল ভূখণ্ডে এখনও দেখা মেলেনি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর। সোমবার অর্থাৎ ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় হলেও, এ বছর আরও অন্তত দু-তিন দিন দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি)। আবহবিদদের একাংশের মতে, বর্ষার আগমন ৩ জুনের পর, এমনকি আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। এই নিয়ে চলতি বছরে আবহাওয়া দফতর তিন বার দেশে বর্ষা আগমনের পূর্বাভাস পরিবর্তন করল।
ঘূর্ণাবর্তের জেরেই থমকে মৌসুমি বায়ু
সাধারণত তিনটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি একসঙ্গে অনুকূল হলে দেশে বর্ষা প্রবেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে মৌসম ভবন। এর মধ্যে রয়েছে কেরলের ৬০ শতাংশ আবহাওয়া কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, আরব সাগরের উপর পশ্চিমা বায়ুর নির্দিষ্ট গতিবেগ এবং আকাশে পর্যাপ্ত মেঘের উপস্থিতি। বর্তমানে কেরল ও লক্ষদ্বীপে জলীয় বাষ্পের কারণে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও পশ্চিমা বায়ু এখনও যথেষ্ট দুর্বল। আবহবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করায় বর্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘূর্ণাবর্তটি মূল ভূখণ্ডের দিকে মেঘ ঠেলে দেওয়ার বাতাসকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
মৌসম ভবনের নিয়ম অনুযায়ী, ৮ জুনের মধ্যে বর্ষা প্রবেশ করলে তাকে খুব একটা বিলম্বিত বলা যায় না। তবে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত ‘এল নিনো’-র প্রভাবে চলতি জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছিল, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতসহ উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে দেশের বেশ কিছু এলাকায় খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়া এবং পানীয় জলের উৎসগুলিতে টান পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্ষা প্রবেশে অতিরিক্ত দেরি হলে দেশের কৃষি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে উদ্বেগজনক প্রভাব পড়তে পারে।