তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, এবার বড়সড় দাবি অধীর চৌধুরীর

নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত নাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের আদি বনাম নব্য কোন্দল কিংবা নেতাদের পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এখন রোজকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদ থেকে প্রাক্তন বিধায়ক, এমনকি দলে দলে কাউন্সিলরও ইস্তফা দিচ্ছেন। এই চরম রাজনৈতিক সংকটের আবহে রবিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ভেস্তে যায়। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা নামে দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এর ফলে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক সংকট
তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভাঙন এবং সাংগঠনিক স্থবিরতার মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয় এবং নেতৃত্বের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের আস্থার অভাবকে দায়ী করছেন। দলের একাংশের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের রণকৌশলগত ভুল এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণেই নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে সিংহভাগ বিধায়কের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দলের অন্দরে ক্ষোভ ও বিদ্রোহের আগুন কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই এখন বহু জনপ্রতিনিধি বিকল্পের সন্ধান করছেন।
তৃণমূল দলটাই আর থাকবে না, কটাক্ষ অধীরের
তৃণমূলের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে এবার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অনেকেই এখন কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অধীর চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের মাত্র একমাসের মধ্যে দলটা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে এসেছে। জনপ্রতিনিধিরা বুঝতে পেরেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকলে সমূহ বিপদ, তাই সবাই মানে মানে দল ছাড়তে চাইছেন। তিনি আরও যোগ করেন, বিধায়করা দেখছেন এই দল করে আর কোনো লাভ নেই। ৮০ জন বিধায়ক নিয়েও তৃণমূল শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দলের সম্মান পাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তৃণমূল নৈতিক ও মানসিকভাবে চুরমার হয়ে গেছে এবং দলটির অস্তিত্বই বিপন্ন হতে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।