পুলিশে ব্যাপক তেল ও টায়ার চুরির সিন্ডিকেট! ১৫ বছরের ‘লুটরাজ’ ভাঙতে তদন্তে নতুন সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত তৃণমূল জমানার দীর্ঘ ১৫ বছরে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে এক ব্যাপক ও সুসংগঠিত তেল এবং গাড়ির টায়ার চুরির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি (Directorate of Security) থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানীয় থানায় বছরের পর বছর ধরে এই দুর্নীতি চালানো হয়েছে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর, নতুন প্রশাসন এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই এক বড়সড় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
অচল গাড়িকে ‘ফিট’ দেখিয়ে ভুয়ো বিলের কারবার
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিন্ডিকেটের চুরির পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত চতুর ও সুপরিকল্পিত। ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি এবং বিভিন্ন থানার অধীনে থাকা বহু খারাপ, অকেজো বা অচল গাড়িকে খাতায়-কলমে সম্পূর্ণ ‘ফিট’ বা সচল বলে দেখানো হতো। এরপর সেই সমস্ত অচল গাড়ির নামে দিনের পর দিন ভুয়ো তেলের বিল তৈরি করা হতো। নথিপত্রে দেখানো হতো যে গাড়িগুলি নিয়মিত সরকারি ডিউটিতে যাতায়াত করছে।
পাম্প মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা লোপাট
অভিযোগ, শুধু ভুয়ো বিল তৈরি করাই নয়, নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে গোপন যোগসাজশ ছিল এই পুলিশি সিন্ডিকেটের। খাতায়-কলমে যে পরিমাণ তেল কেনা দেখানো হতো, বাস্তবে সেই তেল পাম্প থেকেই কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হতো। এরপর পাম্প মালিক ও সিন্ডিকেটের অসাধু পুলিশ কর্তাদের মধ্যে সেই টাকা ভাগ হয়ে যেত। এইভাবে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তেলের পাশাপাশি সরকারি গাড়ির নতুন টায়ার বদলে পুরনো টায়ার লাগিয়ে দেওয়ার মতো চুরির চক্রও সক্রিয় ছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই দুর্নীতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। পুলিশের ভেতরের এই কালো চক্রের শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং কোন কোন শীর্ষ কর্তারা এর সুবিধাভোগী ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।