তৃণমূলে গণতন্ত্র নেই, ভবিষ্যৎ অন্ধকার! বকরি ইদের নমাজ বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ খান

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলা এবং সঙ্গীত জগতে ইন্দ্রনীল সেনের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ফাঁসের পর, এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে লাগল বড়সড় ধাক্কা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ এনে সরব হলেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ খান। তাঁর সাফ দাবি, তৃণমূলে সিনিয়র নেতাদের কোনো সম্মান বা কথা শোনা হয় না এবং এই দলের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বকরি ইদের নমাজ পড়াকে কেন্দ্র করে দলের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর ফতোয়া জারির মতো চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রেড রোডে নমাজের জন্য জোরজবরদস্তির অভিযোগ
প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ খান অভিযোগ করেন, সদ্যসমাপ্ত বকরি ইদের পবিত্র উপলক্ষ্যে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে জোরপূর্বক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি রেড রোডে গিয়েই নমাজ পড়েন। দলের এই একনায়কতন্ত্র ও জোরজবরদস্তির সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেননি। দলের ফতোয়াকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই বকরি ইদের নমাজ সম্পন্ন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জাভেদের
ব্রিগেডে নমাজ পড়ার সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর প্রশাসনকে প্রকাশ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাভেদ খান। তিনি জানান, নতুন সরকার ও প্রশাসন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে যে চমৎকার ও নিরপেক্ষ পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রশাসনের এই সহযোগিতার কারণেই কোনো বিঘ্ন ছাড়াই ব্রিগেডে হাজার হাজার মানুষ নমাজ পাঠ করতে পেরেছেন।
‘তৃণমূলে গণতন্ত্র নেই, ভবিষ্যৎ অন্ধকার’
দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জাভেদ খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে এখন আর কোনো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। দলে সিনিয়র লিডার বা প্রবীণ নেতাদের কোনো মূল্যায়ন হয় না, তাঁদের মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়।” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে এই দলের আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই বলেও স্পষ্ট দাবি করেন তিনি।
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর যখন একে একে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা কালীঘাটের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তখন প্রবীণ সংখ্যালঘু মুখ জাভেদ খানের এই বিদ্রোহ জোড়াফুল শিবিরের ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।