ডান-বামে বারবার ধাক্কা, বহিষ্কৃত ঋতব্রতর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কি বড় প্রশ্ন উঠে গেল!

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের খেলা নতুন কিছু নয়, তবে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের ঘটনাটি নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সোমবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল নেতৃত্ব। এক সময়ের কট্টর বামপন্থী এই নেতার তৃণমূলে যোগ দেওয়া, রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া এবং পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ঝাঁকুনি দিয়েছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তোপ ও বিধায়ক পদের লড়াই
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরপরই আর চুপ থাকেননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে শাসক দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। সরকারের একাধিক দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখে তদন্ত দাবি করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি উলুবেড়িয়া পুরসভায় ১০ হাজার ঘর চুরি ও টেন্ডার না ডাকার মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ হবে কি না, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনোভাবেই বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না এবং উলুবেড়িয়ার মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়জিতের খোঁচা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব
ঋতব্রতর এই রাজনৈতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী এই অভিনেতা নিজের পোস্টে সরাসরি নাম না নিলেও ‘ব্রত’ শব্দ ব্যবহার করে এবং অতীতে বাম দল থেকে বিতাড়িত হয়ে তৃণমূলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “ছেলেটা কি ঘাড় ধাক্কাই না খাচ্ছে। বাম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ডানে গিয়ে ওখান থেকেও বহিষ্কৃত।” এই পোস্টের পর নেটদুনিয়ায় রীতিমতো হাসির রোল উঠেছে, যেখানে নেটিজেনরা তাঁকে ‘ঋতুপরিবর্তন’ বা ‘যমেরও অরুচি’ বলে ট্রোল করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বহিষ্কারের ফলে ঋতব্রতর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বড়সড় ধাক্কা খেল। শাসক দলের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করার যে হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন, তা যদি সত্যি হয় তবে তা রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে। অন্যদিকে, কোনো বড় দলের সমর্থন ছাড়া বিধানসভায় এবং নিজের এলাকায় একাকী রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা তাঁর জন্য আগামী দিনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।