শিশু ধর্ষণ রুখতে ব্যর্থ রাষ্ট্র, সিনেমা বন্ধে অতিউৎসাহী কেন, প্রশ্ন রুমিনের

শিশু ধর্ষণ রুখতে ব্যর্থ রাষ্ট্র, সিনেমা বন্ধে অতিউৎসাহী কেন, প্রশ্ন রুমিনের

চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাংলাদেশে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সিনেমাটির প্রদর্শন আটকে দেওয়ার ঘটনায় এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।

বাকস্বাধীনতা ও উগ্রবাদের উত্থান

বিএনপির প্রাক্তন নেত্রী ও বর্তমান নির্দল সাংসদ রুমিন ফারহানা এই ঘটনাকে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সম্পূর্ণ একটি পারিবারিক ও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার অজুহাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী দুটি বন্ধ করে দেওয়া প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে রাষ্ট্র শিশু ধর্ষণ, সীমাহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ব্যাংক লুটপাটের মতো বড় অপরাধ ঠেকাতে পারছে না, সেই রাষ্ট্র কীভাবে একটি সুস্থ চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ করতে অতিউৎসাহী হয়ে ওঠে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উগ্রবাদী শক্তির কাছে প্রশাসনের একপ্রকার আত্মসমর্পণ প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সাংস্কৃতিক সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

গত কয়েক বছর ধরে দেশে মাজার ভাঙচুর এবং প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডে বাধার মতো যেসব উগ্রপন্থী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন ইতিমধ্যেই এই কাপুরুষোচিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে নিন্দা জানিয়েছে। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীদের মতে, সস্তা ধর্মীয় বা সামাজিক সেন্টিমেন্টের দোহাই দিয়ে এভাবে শিল্পচর্চা বন্ধ করা হলে দেশের পরবর্তী প্রজন্ম এক অন্ধকার ও মৌলবাদী সংস্কৃতির দিকে ধাবিত হবে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার পথ রুদ্ধ হওয়ায় দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল ভাবমূর্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *