কথা শুনেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা, কলকাতার বাসে ত্রিপুরার তরুণীকে কটূক্তির ঘটনায় নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ

কলকাতার গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় ত্রিপুরার এক বাঙালি তরুণীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি ও তাচ্ছিল্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তরুণী পেশায় একজন নার্স এবং সমাজমাধ্যমের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর তৈরি একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির ভৌগোলিক অবস্থান ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকেই এই অনভিপ্রেত ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভাষাগত বিভ্রাট ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
আক্রান্ত তরুণী পায়েেল সরকার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। বাসে যাতায়াত করার সময় তাঁর কথাবলার টান ও উচ্চারণ শুনে সহযাত্রীদের একাংশ তাঁকে বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ পায়েল সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষ কলকাতায় কাজ করতে এলে কেন তাঁদের এভাবে হেনস্থার শিকার হতে হবে? ভারতবর্ষের ভূগোল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম ধারণা থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তিনদিক থেকে বাংলাদেশ পরিবেষ্টিত ত্রিপুরা রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই বাঙালি। ফলে ওখানকার ভাষারীতির সাথে ভৌগোলিক কারণেই কিছু মিল রয়েছে, যা বুঝতে না পেরেই এই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সহানুভূতির ঢল ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু মানুষ নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। দীর্ঘ বছর ধরে কলকাতায় কর্মরত অনেক স্বাস্থ্যকর্মী ও চাকরিজীবী জানিয়েছেন, তাঁদেরও প্রায়শই এমন সংকীর্ণ মানসিকতার মুখোমুখি হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি অভিযোগ দায়ের না হলেও বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, নেটিজেনদের একাংশ একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্যের প্রতি আসাম্মান হিসেবে দেখছেন। এই ধরনের ঘটনা আন্তঃরাজ্য সম্প্রীতি ও কর্মক্ষেত্রের সুস্থ পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমাজতত্ত্ববিদরা। সঠিক সচেতনতা ও ভৌগোলিক জ্ঞানের অভাব দূর না হলে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পেশাদারদের মধ্যে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।