পুরভোটের পর এবার পঞ্চায়েতেও হিমাচলে ফুটল পদ্ম! মুখ্যমন্ত্রীর গড়েই বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস

হিমাচল প্রদেশে পুরসভা নির্বাচনের সাফল্যের রেশ বজায় রেখে এবার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিপুল জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কংগ্রেসশাসিত এই রাজ্যে পুরসভার পর জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতিতেও বিরোধী দল বিজেপির এই জয়জয়কার শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সোমবার চার পুরনিগমের ফলের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা পরিষদের ২৫০টি এবং পঞ্চায়েত সমিতির ১৬৮৪টি আসনের ভোটগণনা শুরু হয়, যেখানে শুরু থেকেই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যায় পদ্মশিবির।
মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে ধস, অনুরাগের গড়ে দাপট
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সুখবিন্দর সিংহ সুখুর নিজস্ব নির্বাচনী কেন্দ্র নদাউনে। মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকের তিনটি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে দুটি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের নির্বাচনী এলাকা হামিরপুরে একতরফা জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে গেরুয়া দল। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট আটটি জেলা পরিষদের মধ্যে ছয়টিতেই বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে কংগ্রেস মাত্র একটিতে এবং অন্য একটিতে নির্দল প্রার্থীরা লিড ধরে রেখেছেন।
পুরভোটের ফলেই লুকিয়ে ছিল ইঙ্গিত
পঞ্চায়েত নির্বাচনের এই ফলের পূর্বাভাস অবশ্য মিলেছিল সোমবার ঘোষিত চার পুরনিগমের ফলাফলেই। সোলান, মান্ডী, ধরমশালা এবং পালমপুরের মধ্যে একমাত্র পালমপুর ছাড়া বাকি তিনটি পুরনিগমই নিজেদের দখলে নিয়েছে বিজেপি। এর আগে পালমপুর এবং ধরমশালা কংগ্রেসের দখলে থাকলেও, এবার ধরমশালা হাতছাড়া হয়েছে তাদের। ধরমশালায় ১১টি আসন জিতে বোর্ড গঠন নিশ্চিত করেছে বিজেপি, যেখানে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। এছাড়া মান্ডীতে ১২টি এবং সোলানে ১০টি আসনে জিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে পদ্মশিবির।
পরাজয়ের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতাই শাসকদলের এই ভরাডুবির প্রধান কারণ। অন্যদিকে, অনুরাগ ঠাকুরের মতো হেভিওয়েট নেতাদের সক্রিয়তা ও সুসংগঠিত প্রচার বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক বছরের মধ্যেই পঞ্চায়েত ও পুরভোটে কংগ্রেসের এই বিপর্যয় রাজ্যে সুখবিন্দর সিংহ সুখুর সরকারের স্থায়িত্ব ও জনপ্রিয়তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই ফল আগামী দিনে রাজ্যের মূল ধারার রাজনীতিতে বিজেপির মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।