বিনামূল্যে মিলবে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য, রেশন ব্যবস্থায় বড় চমক কেন্দ্রের!
দেশের অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর ও দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ প্রকল্পের আওতায় এবার উপভোক্তাদের বিনামূল্যে মাসে ৩৫ কেজি পর্যন্ত খাদ্যশস্য দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক, প্রান্তিক চাষি, গ্রামীণ কারিগর, বস্তিবাসী ও দিনমজুরদের মতো অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার সুবিধাভোগীরা এই সুবিধার আওতায় আসছেন। যারা ইতিমধ্যেই রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, তারা সরাসরি এই খাদ্যশস্য পাবেন।
মহামারীর সংকট থেকে স্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা
২০২০ সালের ২৬ মার্চ কোভিড-১৯ মহামারীর তীব্র সংকটের সময়ে দেশের দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট দূর করতে প্রথম এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। সেই সময় দেশের প্রায় ৮১.৩৫ কোটি মানুষ এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হন। মহামারীর পরবর্তী সময়েও গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের মানুষের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পুরোপুরি না হওয়ায়, এই খাদ্য সুরক্ষা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর থেকে খাদ্য বাবদ খরচের চাপ অনেকটাই কমবে এবং পুষ্টির মান নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারচুপি রুখতে বায়োমেট্রিক ও আধুনিকীকরণ
বিনামূল্যে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য বিতরণের ক্ষেত্রে অতীতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই রেশন কারচুপি রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ ন্যায্যমূল্যের দোকানেই ‘পয়েন্ট অফ সেল’ (PoS) মেশিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে রেশন বণ্টন করার ফলে ভুয়া উপভোক্তাদের বাদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের ফলে দুর্নীতি যেমন কমেছে, তেমনই প্রকৃত অভাবী ও দুঃস্থ মানুষের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছানো নিশ্চিত করা গেছে। নতুনভাবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াটি সরকার শীঘ্রই স্পষ্ট করবে বলে জানা গেছে।