দলীয় বিধায়কদের বড় অংশের সই ঘিরে নতুন সমীকরণ, তৃণমূলের অন্দরে কি তবে অন্য খেলা?

দলীয় বিধায়কদের বড় অংশের সই ঘিরে নতুন সমীকরণ, তৃণমূলের অন্দরে কি তবে অন্য খেলা?

ভোট-পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নতুন করে ধর্না ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই বাংলার শাসকদলের অন্দরে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আসছে। আজই দলীয় ৫০ জন বিধায়কের সই করা একটি রেজুলেশন বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়তে চলেছে। চরম গোপনীয়তা বজায় রেখে তৈরি করা এই নথির মূল মুখ হিসেবে উঠে আসছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তবে এই তৎপরতার চেয়েও রাজনৈতিক মহলকে বেশি চমকে দিয়েছে উক্ত তালিকায় শাসকদলের বেশ কিছু ওজনদার নেতার অনুপস্থিতি।

নেপথ্যের কারণ ও অনুপস্থিতির সমীকরণ

তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের ৫০ জন বিধায়ক এই রেজুলেশনে সই করলেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেখানে নাম নেই ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র কিংবা কুণাল ঘোষের মতো প্রথম সারির নেতাদের। দলের একটি বড় অংশ যখন আন্দোলনের রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত, তখন এই শীর্ষ নেতাদের বাদ দিয়ে বিধানসভায় পৃথক নথী জমা দেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অর্থবহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা অথবা নীতিনির্ধারণী বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণেই এই হেভিওয়েটদের নামের অনুপস্থিতি।

রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার ফলে তৃণমূলের অন্দরে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলনেত্রী সর্বশক্তি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে ৫০ জন বিধায়কের এই পদক্ষেপ দলের ভেতরে তাঁর সাংগঠনিক গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, ফিরহাদ বা কুণাল ঘোষদের মতো চেনা মুখগুলোর এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকা আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *