ভুল সিদ্ধান্তের মাসুল! দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তীব্র ক্ষোভ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
/indian-express-bangla/media/media_files/2024/12/28/IvyxiUKwW35RDShyDI3F.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
দলীয় শৃঙ্খলভঙ্গ ও ‘গদ্দারি’র অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। দলের এই চরম সিদ্ধান্তের পর নিজের অসন্তোষ ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে সিপিআই(এম) থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে তৃণমূলের টিকিটে জেতানো যে তাঁর কত বড় ভুল ছিল, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন দলীয় নেত্রী। একই সঙ্গে এক দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধেও দল ভাঙানোর চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তিনি।
ভুল স্বীকার ও সিপিআই(এম)-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিপিআই(এম) যখন তাঁকে দল থেকে তাড়িয়েছিল, তখন তারা একদম ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিল। অতীতে ভুল করে ঋতব্রতকে আশ্রয় ও নির্বাচনী টিকিট দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎহীন একজন মানুষ পায়ে ধরে অনুরোধ করায় টিকিট দেওয়া হয়েছিল, অথচ দলের টিকিটে দুবার জেতার পর আজ তিনি ‘গদ্দারি’ করছেন। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষকে এই ধরনের সুবিধাবাদী নেতাদের চিনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ভেতরের কোন্দল ও বিজেপিকে নিশানা
দলীয় কোন্দল যে আরও গভীরে, তা স্পষ্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে বারাসাতের সাংসদের দিকেও আঙুল তুলেছেন। ছেলেকে টিকিট না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সাংসদ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েছেন এবং দল ভাঙানোর চেষ্টা করছেন বলে দাবি তাঁর। দলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি বিজেপিকেও তীব্র নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত ও ‘প্রাণে মারার চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করে তিনি জানান, বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে পুলিশের সামনেই এই হামলা চালিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া বিধায়ক বহিষ্কার এবং দলীয় সাংসদের প্রতি হুঁশিয়ারি তৃণমূলের ভেতরের তীব্র ডামাডোলকে সামনে এনে দিল। একদিকে দলত্যাগী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ঠিক তখনই দলের শীর্ষস্তরের অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসায় সাংগঠনিক স্তরে এর বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।