ভয়াবহ ঘটনা: ভূত তাড়ানোর নামে তরুণীকে মাদক খাইয়ে পাশবিক নির্যাতন, অভিযুক্ত ৩ গ্রেফতার

অন্ধবিশ্বাসের করাল গ্রাস, তরুণীকে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন!
কেরলের এক ভয়াবহ ঘটনা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে এক তরুণীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ‘ভূত ছাড়ানোর’ নাম করে তরুণীকে জিম্মি করে চালানো হয় এই নৃশংস অত্যাচার।
অমানবিক ও বর্বরোচিত কাণ্ড
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা তরুণীর ওপর ভূতের আছর রয়েছে বলে দাবি করে। এই অজুহাতে তারা বাড়িতে এক তান্ত্রিককে ডেকে আনে এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার অনুষ্ঠানের নামে তরুণীর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ, সকাল ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। জোর করে তাকে বিড়ি ও মদ্যপান করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি সিঁদুর মেশানো ভস্ম খাওয়াতে চেয়ে এবং জ্বলন্ত ধূপ দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে চরম যন্ত্রণা দেওয়া হয়। একটানা এই অমানুষিক অত্যাচারে তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবারের সন্দেহ জাগে এবং তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে তরুণীর বন্ধু, তার বাবা এবং অভিযুক্ত তান্ত্রিককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম, ওই যুবকের মা এখনও পলাতক। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সম্পূর্ণ ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে অন্ধবিশ্বাসের আড়ালে চালানো হয়েছে। তরুণীকে বর্তমানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।