ব্যাগে পোস্ত নিয়ে সফরের পরিকল্পনা, বিমান বা ট্রেনে ওঠার আগে জেনে নিন জরুরি আইনি নিয়মাবলী

বাঙালির হেঁশেলে পোস্তর কদর আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন পড়ে না। রবিবারের দুপুরের ধোঁয়া ওঠা ভাতে আলু পোস্ত কিংবা উৎসবের মিষ্টি, সবেতেই পোস্তদানার ব্যবহার বিপুল। তবে সাধের এই রান্নার উপাদানটি নিয়ে যদি আপনি কোথাও ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে ব্যাগ গোছানোর আগে একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। দেশীয় রান্নায় অত্যন্ত সাধারণ এবং নিরীহ এই উপাদানটিই সীমানা পেরোলেই আপনাকে বড়সড় আইনি বিপাকে ফেলতে পারে। বিমান কিংবা ট্রেনে পোস্ত নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম এবং আইন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক উড়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিষেধাজ্ঞা
আপনি যদি দেশের বাইরে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে পোস্তকে রান্নাঘরের কৌটোতেই রেখে যাওয়া শ্রেয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), সৌদি আরব, ওমান, কাতার এবং এশিয়ার সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের মতো দেশে পোস্তদানা বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু এই বীজ আফিম গাছ থেকে পাওয়া যায়, তাই এই দেশগুলির মাদক আইনে পোস্তকে নিষিদ্ধ সামগ্রী হিসেবেই গণ্য করা হয়।
মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির নীতি অত্যন্ত কঠোর। বিমানবন্দর বা কাস্টমসে চেকিংয়ের সময় সামান্য পোস্ত কিংবা পোস্ত দেওয়া কোনো খাবার মিললেও তাৎক্ষণিক গ্রেফতারির মুখোমুখি হতে পারেন যাত্রী। এখানে অনুমোদিত পরিমাণ একেবারেই শূন্য। আমেরিকা, ব্রিটেন বা কানাডার মতো দেশে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পোস্ত নিয়ে যাওয়া গেলেও কাস্টমসে তার আগাম ঘোষণা করতে হয়। তবে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিদেশে পোস্ত না নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অভ্যন্তরীণ উড়ান ও ভারতীয় রেলের নিয়ম
ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বিমানে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের ভেতরের যে কোনও উড়ানে আপনি নিশ্চিন্তে পোস্ত নিয়ে যেতে পারেন। তবে হ্যান্ড ব্যাগে পোস্ত থাকলে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ঝামেলা এড়াতে সব সময় পোস্তর প্যাকেটটি চেক-ইন লাগেজের ভেতরে প্যাক করা উচিত। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনও আইনি ঊর্ধ্বসীমা নেই, যদি তা আপনার এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত ব্যাগেজ ওজনের মধ্যে থাকে।
অন্যদিকে, ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবহারের জন্য পোস্ত নিয়ে যাতায়াতে সাধারণ যাত্রীদের কোনও বাধা নেই। তবে চোরাচালান রুখতে রেল পুলিশ সর্বদা কড়া নজরদারি চালায়। সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেনের শ্রেণি অনুযায়ী নিখরচায় লাগেজ বহনের যে ঊর্ধ্বসীমা থাকে, সেই অনুযায়ী পোস্ত নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু ব্যবসার উদ্দেশ্যে বা বড় চালানের আকারে ট্রেনে পোস্ত পাঠাতে হলে অবশ্যই বৈধ জিএসটি (GST) ইনভয়েস এবং ই-ওয়ে বিল থাকতে হবে। উপযুক্ত নথি না থাকলে কর ফাঁকি বা বেআইনি ব্যবসার সন্দেহে রেল পুলিশ বা কাস্টমস সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
ভারতের মাদক আইন ও পোস্তর অবস্থান
ভারতের মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ সংক্রান্ত আইন বা NDPS Act (1985) অনুযায়ী, আফিম চাষ সরকারের নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও এই আইনের আওতা থেকে পোস্তদানাকে সম্পূর্ণ বাদ রাখা হয়েছে। গাছের নির্যাস বা মাদক অংশের সাথে এর কোনও সম্পর্ক নেই। তাই ভারতীয় বাজারে যে পোস্ত বিক্রি হয়, তা সম্পূর্ণ বৈধ। দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে পোস্ত কেনা, বিক্রি করা, খাওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে তা সঙ্গে রাখা কোনও অপরাধ নয়। তবে বিদেশের মাটিতে আইনি জটিলতা এড়াতে ভ্রমণের আগে এই নিয়মগুলো মাথায় রাখা জরুরি।